01/04/2026
ইতিহাস কথা বলে
গাজী গোলাম মোস্তফা
শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের বেশ কয়েকটি কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ গাজী গোলাম মোস্তফার কর্মকান্ড!
আমার লেখা ব্যক্তিগত কোন লেখা নয়,ইতিহাসের আলোকে লেখা।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ।
যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের অশান্ত বাংলাদেশের আশাহত মানুষের মধ্যে বেশ কিছু মানুষের লেখার মধ্যে দিয়ে আমার জ্ঞানের বিকাশ ঘটানোর প্রচেষ্টা মাত্র।
বিভিন্ন লেখকের লেখার মধ্যে নিজস্ব ভাবধারা তুলে ধরা।
১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের বিভিন্ন ঘটনাবলী ১/২ টি পোস্টে তুলে ধরা সম্ভব নয়।
তাই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী বিভিন্ন পোস্টে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইতিহাসের ঘটনাবলীর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ন্যায় অন্যায়ের বিচার করার মালিক একমাত্র পাঠক।
এখানে লেখকের কোন নিজস্ব মতামত নেই।
লেখক ইতিহাসের আলোকে ঘটনাবলী পাঠকের সামনে তুলে ধরতে পারে মাত্র।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
১৯৭৪ সালের মার্চ শুরু হওয়া দুর্ভিক্ষ শেষ হয় ডিসেম্বর মাসে।
এর মধ্যে মারা যায় কয়েক লক্ষ মানুষ।
দুর্ভিক্ষে মানুষের মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে নেই কোন নিদিষ্ট হিসাব।
যেমন হিসাব নেই ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের।
যার ফলে ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে আছে মতভেদ।
সরকারী হিসেবে ২৭ হাজার বলা হলেও, গবেষকদের ধারণা কয়েক লক্ষ মানুষ না খেয়ে মারা গেছে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের মূল কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল সরকারী চাকুরীজীবি,আমলা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মজুদদারি ও কালো বাজারী।
এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও আমেরিকার খাদ্য সহযোগিতা থেকে বিরত থাকা।
অন্যদিকে রক্ষী বাহিনীর দৌরাত্ম।
মূলত রক্ষী বাহিনী, সরকারী আমলা, আওয়ামী লীগের নেতা ও তাদের দৌসর ব্যবসায়ীরা খাদ্য পণ্য মজুদ করে ও ভারতে পাচার করে দেশে কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট তৈরী করে নিজেরা লাভ হয়েছিলেন।
যার প্রভাব পড়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষমতায়নে।
১৯৭৪ সালে গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের রেডক্রসের সভাপতি, ঢাকা সিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি সহ শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন।
গাজী গোলাম মোস্তফার ২ ছেলে ছিলেন শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে বিদেশ থেকে সাহায্য আসা শিশু খাদ্য ও কম্বল গেলাম মোস্তফা ভারতে পাচার এবং দেশের অভ্যন্তরে চড়া দামে বিক্রি করে বলে ইতিহাস থেকে জানা গেছে।
গাজী গোলাম মোস্তফার পাপের কলসে এবার শেখ মুজিবুর রহমান বুলেটের আঘাতে মৃত্যু বরণ করে।
শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডে মেজর ডালিম ও মেজর নূরের যোগদানের মূল কারণ ছিল গাজী গোলাম মোস্তফা।
১৯৭৪ সালে ঢাকা শহরে শেখ মুজিবুর রহমানের পরেই ছিলেন গাজী গোলাম মোস্তফা।
আর এই গাজী গোলাম মোস্তফার শক্তি ছিল স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান।
গাজী গোলাম মোস্তফা রেডক্রসের ২টি গাড়ী তাঁর ব্যক্তিগত সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করতেন।
অবৈধ অস্ত্র ও সঙ্গী নিয়ে রেডক্রসের গাড়ীতে চলাচল করতে তিনি।
ঢাকার এক লেডিস ক্লাবের বিয়ের অনুষ্ঠানে গোলাম মোস্তফা মেজর ডালিম, তাঁর স্ত্রী ও খালা শাশুড়ীকে অস্ত্রের মুখে রেডক্রসের গাড়ীতে জোরপূর্বক তুলে নেয়।
গোলাম মোস্তফার এমন কর্মকান্ডে মেজর ডালিমের আত্নীয়, বন্ধু আর্মি অফিসার গাজী গোলাম মোস্তফার বাড়ী ঘেরাও ও তছনছ করে।
উভয় পক্ষ শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট বিচার প্রার্থী হয়।
শেখ মুজিবুর রহমান ডালিম ও তাঁর স্ত্রীকে বিচারের আশ্বাস দিলেও, মূলত তিনি সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটি করে মেজর ডালিম, মেজর নূর সহ প্রায় ২০ জন সেনাকর্মকর্তা ও জোয়ানের চাকরী থেকে অব্যাহতি দেন।
যার কারণে সেনাবাহিনীর জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধী মনোভাব গড়ে উঠে।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কর্ণেল ফারুক ও কর্ণেল রশিদ মেজর ডালিম ও তাঁর বন্ধু মেজর নূরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডে তাদের সঙ্গী করতে পেরেছিলেন গাজী গোলাম মোস্তফার ঘটনার কারণে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর মেজর ডালিম ব্যক্তিগত ভাবে গাজী গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে কোন ধরণের পদক্ষেপ নেয়নি।
গাজী গোলাম মোস্তফা ২ বস্তা টাকা নিয়ে ভারতে পালানোর সময়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে।
জনতা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিলে গাজী গোলাম মোস্তফার বিচার হয়।
বিচারে গাজী গোলাম মোস্তফার ১০ বছরের জেল হয়।
১৯৮০ সালে ৫ বছর জেল খাটার পর গাজী গোলাম মোস্তফা জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন।
জেল থেকে মুক্ত হয়ে গাজী গোলাম মোস্তফা স্ব পরিবারে ভারতের আজমির শরীফ সফরের উদ্দেশ্য রওনা হন।
ভারতের দিল্লীতে তিনি বেশ জামাই আদরে কয়েক দিন কাটান।
এরপর দিল্লী থেকে পরিবারের সবাই মিলে আজমির শরীফ যাওয়ার পথে একটি ট্রাক লড়ি গাজী গোলাম মোস্তফার পুরো পরিবারকে রাস্তার সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।
ইতিহাস থেকে জানা যায় গাজী গোলাম মোস্তফার ভারতে প্রচুর ধন সম্পদ ছিল।
মূলত বাংলাদেশের বিদেশী সাহায্য আর দেশের মধ্যে লুটপাট চালিয়ে গাজী গোলাম মোস্তফা যত সম্পদ অর্জন করেছিলেন, তার অধিকাংশ তিনি ভারতে জমা রেখেছিলেন।
বাংলাদেশের গরীবের হক মারা টাকা ভোগের জন্য গাজী গোলাম মোস্তফার পরিবারের আর কেউ বেঁচে থাকলো না। বেশি বেশি শেয়ার করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন।।