04/02/2026
ইন্ডিয়া - ইউএস ট্রেড ডিল : সারসংক্ষেপ
অতি সম্প্রতি ইন্ডিয়া- ইউএস ট্রেড ডিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে অভিনন্দন ও ওনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এটা দেখার পরই খুব ইচ্ছে হল একটু খোঁজ খবর নিই এই ব্যাপারে, দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মানে নিশ্চয়ই এটা উপহার সবার জন্যে। উপহারের বাক্স টা খুলি :
**** নতুন ট্রেড ডিল অনুযায়ী ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানী করা যে কোন জিনিসের উপর ১৮% হারে কর নেবে আমেরিকা। এই পার্সেন্টেজ টা ট্রাম্প কিছুদিন আগেই করেছিলেন ৫০% এবং ট্রেড ডিলের ফলে এটা কমে হয়ে গেল ১৮%, আনন্দের ব্যাপার, অভিনন্দন, মিষ্টি খেলাম একটা। কিন্তু মিষ্টি টা শেষ হওয়ার আগেই যেটা দেখলাম, ভারত আমেরিকার MFN অর্থাৎ মোস্ট ফেভার্ড নেশন এর তালিকায় পরে এবং ২০১৮ অব্দিও ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানী করা যে কোনো জিনিসের উপর ২.৫ থেকে ৩.৫% অব্দি কর নিত আমেরিকা। ট্রাম্প সেটাকেই মাস দুয়েক আগে বাড়িয়ে ৫০% করেন, আবার পরশু দিনই ঐ ৫০% কে কমিয়ে ১৮% করেন! অনেক টা ফ্লিপকার্ট এর বিগ বিলিয়ন সেলের মত। ১০০০ টাকার জিনিসের দাম বাড়িয়ে ২০০০ করে দাও, তারপর ৫০% ডিসকাউন্ট দিয়ে আবার ১০০০ টাকাতেই বিক্রি করো, সবাই খুশি।
**** আচ্ছা ভারত থেকে কোনো জিনিস আমেরিকায় রপ্তানী করলে কত কর নেবে আমেরিকা সেটা জানা গেল, তাহলে আমেরিকা থেকে ভারত যে সব জিনিস আমদানী করবে, তাতে কত কর নেবো আমরা? - ০! ঠিকই, শূন্য শতাংশ কর! অবাক হচ্ছেন? দাঁড়ান তবে। আগে আমরা কত কর নিতাম? ১২ থেকে ১৩%। ব্যাপার টা এখানেই শেষ নয়,
**** এই ট্রেড ডিল অনুযায়ী আগামী ৪ - ৫ টি অর্থ বর্ষে ভারত আমেরিকার থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জিনিস কিনতে বাধ্য থাকবে। কি কি কিনবো আমরা? খনিজ তেল, ডিফেন্সের সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক, ওষুধ এবং কৃষি কাজে ব্যবহৃত জিনিস।
এর ফলশ্রুতিতে কি হবে?
১. আমেরিকার বানানো অনেক জিনিসই বেশ কম দামে এ দেশে পাওয়া যাবে, ফলে দেশীয় কোম্পানী গুলো নতুন ধরনের প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে, যার জন্যে তারা প্রস্তুত ছিল না।
২. ভারতের বানানো জিনিস আমেরিকায় যে গুলো রপ্তানী হবে, সেগুলো এই ট্যারিফ এর কারণে যেহেতু ইতিমধ্যেই বেশ দামী, তাই ওখানকার কোম্পানির বানানো জিনিসের সাথে প্রতিযোগিতায় এঁটে উঠতে ভারতীয় কোম্পানি গুলোকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।
৩. এই ৫০০ বিলিয়ন ডলারের গ্যারান্টিড Purchase যেহেতু আমাদের করতে হবে আমেরিকার থেকে এবং এর একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে খনিজ তেল, তাই বেশী দামে হলেও ভারত কে খনিজ তেল আমেরিকার থেকে কিনতে হবে। গতকালই ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কার বলেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত রাশিয়া থেকে অত্যন্ত স্বল্প দামে খনিজ তেল আমদানি করে থাকে। কিন্তু এই ট্রেড ডিলের ফলে ইউএস প্রেসিডেন্ট যে দাবি করেছিলেন এত দিন ধরে, তার প্রথম ধাপ টা সম্পূর্ণ হতে দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট ভাবে।
এবার আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে অভিনন্দন টা জানিয়েছিলেন, ওটা আমাদের, অর্থাৎ ভারতীয় দের উদ্দেশ্যে জানিয়েছিলেন, নাকি ওটা আমেরিকানদের জানিয়েছিলেন!
এখন বিষয় হল, মোদী জ্বী নিশ্চয়ই এত কম বুদ্ধিমান নন এবং উনি নিশ্চয়ই দেশবাসীকে ও নির্বোধ ভাবেন না! তাহলে সম্পূর্ণ বোগাস একটা ডিল, যেটা নিয়ে মোদী জ্বীর অতি বিশ্বস্ত পশ্চিম ভারতের বিজনেস কমিউনিটি ও ছি ছি করছে, সেই ডিল উনি সাইন করলেন কেন? অনেক সময় মানুষ অনেক ধরনের বাধ্যবাধকতা থেকে অনেক কিছু করেন, এবার এক্ষেত্রে সেটা এপসটিন ফাইল কিনা, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না।
ওহ হ্যাঁ,
উপরে দেওয়া তথ্য গুলি যাচাই করতে চাইলে, একটু ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করতেই পারেন, হাতেনাতে প্রমাণ পাবেন, অকারণে কমেন্ট বক্সে এসে ঝগড়া করতে হবে না, নেহাতই যদি আইটিসেলের মত বাধ্যবাধকতা না থাকে আপনার।
Copied from - Debanjan Dutta da