21/11/2025
গল্পঃ শব্দহীন ভালোবাসি
পর্বঃ ০৪
লেখকঃ ফাহিম
""
""
""
জানি না কেন, কিন্তু মনে হলো ওর নীরবতা তেও একটা শব্দ আছে যা শুধু আমি শুনতে পাচ্ছি।
সবাই চুপ করে গেল। আমি ফোনটা পকেটে রাখলাম মুখে হালকা একটা হাসি। তারপর বললাম,,,,,,,,
আমিঃ আচ্ছা দোস্ত এখন তাহলে বিদায় নেই । অনেক আড্ডা হলো ।
আমরা ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে টিএসসি'র দিক ধরে হাঁটতে শুরু করলাম ।
সোহানঃ সাবধানে যা আর রিমির আপডেট জানাস কিন্তু।
আমিঃ আচ্ছা জানাবো । চলি ।
বলেই বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে বাইক পার্কিং লটে গেলাম। বাইক স্টার্ট দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট পার হয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলাম। রাস্তাঘাটে তেমন ভিড় না থাকায় অল্প সময়েই বাসায় পৌঁছে গেলাম।
বাইকটা গ্যারেজে রেখে ঘরে ঢুকতেই মায়ের গলার আওয়াজ পেলাম।
আম্মুঃ এই তো আমার ছেলে চলে এসেছে! এত তাড়াতাড়ি যে? আজ কি সব ক্লাস হয় নি?
আমি ড্রয়িংরুমে গিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিলাম। আর বললাম,,,,,,,,
আমিঃ না মা। শফিক স্যার অসুস্থ, তাই দুপুরের ক্লাসগুলো বাতিল হয়েছে।
আম্মুঃ ওহহ। তাহলে তো ভালোই হলো। একটু বিশ্রাম নিতে পারবি।
বলেই আম্মু আমার পাশে বসলেন ৷ মুখে স্নেহের হাসি।
আম্মুঃ আচ্ছা যা ফ্রেস হয়ে আয়। খাবার রেডি করছি।
আমি: আচ্ছা, যাচ্ছি মা।
বলেই মাকে জড়িয়ে ধরে একটু আদর করে বললাম,,,,,,,,
আমিঃ আজ কী রান্না করেছো? খুব ক্ষিদে পেয়েছে।
আম্মুঃ তোর পছন্দের মাছের ঝোল আর গরম ভাত। তাড়াতাড়ি আয়।
আমিঃ আসছি।
বলেই আমি ঘরে এসে জামাকাপড় বদলে ফ্রেশ হলাম। হাত-মুখ ধুয়ে টেবিলে রাখা ফোনটা হাতে নিলাম। দেখলাম রিমির কাছ থেকে একটা নতুন মেসেজ এসেছে।
রিমিঃ কি করছেন ।
আমি অবাক হলাম। আজ আগে এসএমএস দিলো । তাই আমিও রিপ্লাই দিলাম,,,,,,,
আমিঃ খাওয়ার জন্য ফ্রেশ হলাম ।
রিমিঃ এখনো খান নি ?
আমিঃ না এখনও খাইনি। তবে খাবার রেডি। আপনি খেয়েছেন?
কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর এলো।
রিমিঃ হ্যাঁ।
আমিঃ আমার সাথে ফোনে কথা বলতে আপনার কি কোনো সমস্যা হয়?
রিমিঃ কেন মনে হলো?
আমিঃ না মানে, আপনি তো কথা বলেন না। খালি মেসেজেই উত্তর দেন।
রিমিঃ ফোনে কথা বলার চেয়ে মেসেজ করাই তো ভালো। শান্তিতে নিজের মনের কথা বলা যায়।
আমিঃ কিন্তু আপনি তো একটা কথাও বলেন নি । অন্তত থ্যাংকস বা ওকে তো বলতে পারতেন ।
রিমিঃ এতো কথা না বলে খেয়ে নিন যান ।
আমি আর কিছু না বলে ফোনটা রেখে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু আমার মনের ভেতরে কৌতূহলটা তখনও রয়ে গেল। এই মেয়েটা কেন ফোন করলেই চুপ করে যায়? কেন একটা কথাও বলে না? এমন কেন ওর আচরণ? সব যেন এক গভীর রহস্যে ঢাকা।
আম্মুর হাতের গরম গরম মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে উপরে নিজের রুমে চলে এলাম। তারপর প্রতিদিনের মতোই আজকেও ঘুমিয়ে নিলাম ।
রুমের দরজা বন্ধ করে ল্যাপটপটা বন্ধ করলাম। এখন আর এসাইনমেন্টে মন বসবে না, আমি জানি। ফোনটা হাতে নিয়ে বিছানায় হেলান দিলাম, আর সঙ্গে সঙ্গে রিমির চ্যাটবক্স ওপেন করলাম।
আমিঃ হাই, কি করছেন ।
রিমিঃ কিছু না । আপনি ?
আমিঃ পড়া শেষ করলাম ।
রিমিঃ আপনি কোন ক্লাসে পড়েন ।
আমিঃ অনার্স ৪র্থ বর্ষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । আর আপনি ।
রিমিঃ পড়াশোনার খুব ইচ্ছে থাকলেও পার্সোনাল সমস্যার কারনে বেশি দূর পড়তে পারি নি । তাই বাদ দিতে হইছে । তাই ইন্টার পাশ করেছি ।
আমিঃ আপনার বাসা কোথায় ।
রিমিঃ খুলনায় ।
আমিঃ আপনার জীবনের অনেক রহস্যময় গল্প আছে তাই না ।
প্রায় পাঁচ মিনিট পর রিপ্লাই এলো।
রিমিঃ কার জীবনে নেই? আপনিও তো সব কথা বলতে পারেননি কাউকে তাই না ?
আমিঃ হয়তো কিছুটা সত্য ।
রিমিঃ আমার কাছে এটাকে গল্প নয়, এটাকেই জীবন বলা হয় । আপনি অকারণে সব কিছুকে জটিল করছেন।
আমিঃ জটিলতা তো আপনিই তৈরি করেছেন। একটা মানুষ ফোন ধরলেও কেন একটা কথাও বলবে না ? কারণটা কি আমি জানতে পারি না ?
অনেকক্ষণ কোনো উত্তর এলো না। আমি অপেক্ষা করছিলাম। হয়তো ভাবছে কী উত্তর দেবে ।
রিমিঃ আমি চাইনা কারন টা বলতে ।
আমিঃ শুনতে চাই প্লিজ । আপনার কন্ঠ শোনার আমার খুব ইচ্ছে । একবার প্লিজ ?
রিমিঃ শুনতে হবে না । বাই ।
হয়তো রাগ করেছে । তাই ফোন পাশে রেখে আমি শুয়ে পড়লাম । কিন্তু ঘুম কিছুতেই ধরছে না । তাই আবার নির্লজ্জের মতো এসএমএস করলাম,,,,,,,,
আমিঃ আপনি কি রাগ করেছেন আমার কথায় ?
দশ মিনিট পর চেক করে দেখলাম সিন করেছে ঠিকই কিন্তু রিপ্লাই করে নি । তাই বিরক্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । রাতে তৃষ্ণায় ঘুম ভেঙে গেলো । তাই ঘুম থেকে উঠে নিচে ফ্রিজ থেকে পানি পান করে আবার রুমে আসলাম ।
টাইম দেখার জন্য ফোনের স্ক্রিন জালিয়ে দেখি,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট করে জানিয়ে দিন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।