02/03/2026
আগেই বলে নিচ্ছি,- এই ওয়ার আমেরিকা ও ইজরায়েল জয়ী হতে যাচ্ছে। আমেরিকা ইজরায়েল তাদের জন্যে এই ওয়ার জয়ী হতে যাচ্ছে, যারা মনে করে, যুদ্ধে যে বেশি মানুষ হত্যা করে, তারাই ওয়ার জিতে।
স্কুলে টার্গেট করে বাচ্চাদের হত্যা করা, হসপিটালে টার্গেট করে রোগীদের হত্যা করা, কার্পেট বোম্বিং করে সিভিলিয়ান হত্যা করা, এমনকি টপ লিডারশিপকে হত্যা করে যদি মৃতের সংখ্যা বাড়ানো যায়, তাহলেই ওয়ার জেতা যায়—এমনটা যারা মনে করেন, তাহলে ইউএস ও ইজরায়েল আপনাদের জন্যে ওয়ার জিত্তে চলেছে।
এছাড়া যতগুলো সাইন দেখা যাচ্ছে, সেটা বলছে—এই ওয়ার শুধু ইরানিয়ানদের ক্ষতি করছে না, বরং এই ওয়ার সারা বিশ্বের মানুষের জন্যেই বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ইরানিয়ানরা আগেই বলেছিল, আমাদের ওপর আঘাত এলে আমরা সম্পূর্ণ মিডলইস্টকে আনস্টেবল করে দেব। এখন ইরানিয়ানরা শুধু মিডলইস্টকে নয়, সম্পূর্ণ পৃথিবীকেই আনস্টেবল করে দিতে চলেছে।
তারা মিডলইস্টের সঙ্গে সারা পৃথিবীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। দুবাই-কাতারের এয়ারপোর্ট যেখানে সম্পূর্ণ পৃথিবীর ট্রানজিট হাব। তারা সেই ট্রানজিট হাবটাই বন্ধ করে দিয়েছে। মিডলইস্টের প্রায় সবগুলো এয়ারপোর্ট বন্ধ, এয়ারস্পেস ক্লোজড। সব প্লেন গ্রাউন্ডেড। এটা কত বড় ফাইনান্সিয়াল লস, সেটা টাকার অংকে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।
সৌদির অয়েল রিফাইনারি বন্ধ। কাতারের গ্যাস রিফাইনারি বন্ধ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। অয়েল ট্যাংকারে আক্রমণ করে ভয় দেখিয়ে দিয়েছে। তার মানে সারা বিশ্বে এনার্জি ক্রাইসিস তৈরি হবে। এক সপ্তাহ পরে বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা কতটা ভয়ানক। স্পেশালি থার্ডওয়ার্ল্ড কান্ট্রি ও ইউরোপের জন্যে।
ইউরোপের জন্যে রাশিয়ার এনার্জি নেই, আবার মিডলইস্টের এনার্জিও নেই। এখন আমেরিকা থেকে বেশি দামে কিনবে। ইউরোপের মার্কেটে ইমপ্যাক্ট পড়বে এটা ১০০% শিওর। আমাদের মতো গরিব দেশের জন্যে তো আরও ভয়াবহ হবে ব্যাপারটা।
এছাড়া ও ওয়ার সিনারিও বিশ্লেষণ করলে —ইজরায়েলে ইরানিয়ান মিসাইল হিট করছে। তার মানে ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম প্রপারলি কাজ করছে না। অ্যারো থ্রি, ডেভিড স্লিং, আয়রন ডোম—সব ব্যর্থ। একটা মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করতে ১০-১২টা ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছুঁড়তে হচ্ছে। আর যেগুলো ইন্টারসেপ্ট হচ্ছে, সেগুলোও থাড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টারসেপ্ট করছে। তাছাড়া ও ইন্টারসেপ্টর ধীরে ধীরে কমে আসছে। এগুলো মিডিয়াতে রিপোর্ট হচ্ছে প্রতিদিন।
যারা মনে করেন আমেরিকার ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি বিশাল, তাদের মিসাইল কখনোই শেষ হবে না—তাদের জন্যে আমেরিকা এই ওয়ার জিত্তে চলেছে।
কিন্তু রিয়েলিটি হচ্ছে, আমেরিকার ওয়েপন প্রায় ২০% ইউজ হয়ে গেছে। ইরানের আশেপাশের কোনো বেইজ তারা ব্যবহার করতে পারছে না। তারা ব্যবহার করছে ইজরায়েলের বেইজ। অ্যাটাক লঞ্চ করছে ইজরায়েল থেকে।
ইরানিয়ান ওয়ার প্ল্যানারদের টপ প্রায়োরিটি থাকবে ইজরায়েলের এয়ার বেইজ ডেস্ট্রয় করা। হয়তো তারা কিছু ডেস্ট্রয় করেছে, কিংবা পুরোপুরি ডেস্ট্রয় না করতে পারলেও পুরোদমে অপারেশন চালানো যাচ্ছে না। আর এজন্যই এখন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী তারা ইউজ করবে সাইপ্রাসের এয়ার বেইজ। ইউকে তাদের বেইজ ইউজ করার পারমিশন দিয়েছে, যেখানে শুরুতে তারা মানা করেছিল। যদি ইজরায়েলের সম্পূর্ণ বেইজ অক্ষত থাকত, তাহলে অন্য দেশের বেইজ ইউজ করার প্রয়োজন কেন পড়ল?
ইজরায়েল থেকে সরকারের পারমিশন ছাড়া কোনো রিপোর্ট বের হয় না। তাই সেখান থেকে মিলিটারি লসের কোনো খবর পাওয়া সম্ভব নয়।
এছাড়া ও ফ্রান্স তাদের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নিয়ে আসছে যুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্যে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের হাতে যদি আনলিমিটেড রিসোর্স থাকত, তাহলে এখন ফ্রান্সের দরকার পড়ল কেন?
অনেকেই ভাবছেন যে, ইরানের মিসাইল শেষ হয়ে গেলে কী করবে? রাশিয়া ও চায়না ডিরেক্টলি ওয়ারে না আসলেও, ওয়েপন দিয়ে সাপোর্ট তাদের দিতেই হবে।
আমেরিকার এই ওয়ার শুধু ইরানের সঙ্গে নয়—যত জিওপলিটিকাল অ্যানালিস্ট আছেন, সবাই মনে করেন, ইরানের পর টার্গেট রাশিয়া, তারপর চায়না। আমেরিকা তাদের সমকক্ষ কাউকেই হতে দিতে চায় না। রাশিয়াকে আটকে রেখেছে ইউক্রেনে, দুর্বল করছে, সুযোগমতো ঘাড় মটকে দিতে চাইবে। চায়নার সঙ্গে কয়েকদিন আগেও ট্যারিফ ওয়ার খেলেছে।
এখন চায়না ও রাশিয়া ইরানে আমেরিকাকে আটকানোর এই সুবর্ণ সুযোগ কেন মিস করবে? তারা ইরানের হার অ্যাফোর্ড করতে পারবে না। আমি পার্সোনালি মনে করি, তারা ওয়েপন দিয়ে ডেফিনিটলি হেল্প করবে, ইভেন এখনও করছে। শুধু ওয়েপন নয়, স্যাটেলাইট সহায়তা, মিসাইলের জন্যে জিপিএস টেকনোলজি—এসব চায়না ও রাশিয়া ছাড়া ইরানের পাওয়া পসিবল না।
আজ ট্রাম্প বলছে এই ওয়ার অনেক লম্বা হবে। সে ভেবেছিল টপ লিডারশিপকে হত্যা করলেই সরকার পতন হয়ে যাবে, হয়েছে আরও উল্টো। শিয়ারা তাদের সর্বোচ্চ নেতা ও ইমামকে হারিয়ে এখন প্রতিশোধের নেশায় আছে। তারা রাস্তায় নেমে এসেছে প্রতিবাদে।
ইরানিয়ানদের বাচ্চাদের হত্যা করে ট্রাম্প ভাবছে যে, ইরানিরা তাদের সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাবে। হচ্ছে আরও উল্টো।
বাটপারেরা রেজিম চেঞ্জের প্ল্যান নিয়ে এসেছিল—এখন পিছু হটার চেষ্টা করছে।
আজ আমেরিকান ডিফেন্স সেক্রেটারি বলেছে, আমাদের অবজেক্টিভ হচ্ছে তাদের নিউক্লিয়ার এবং মিসাইল প্রজেক্ট ডেস্ট্রয় করা। 😄
শেষমেশ এটা ইরানের এক্সিস্টেন্সের লড়াই। তারা এখন এটাই ভাবছে—'হাম তো ডোবেঙ্গে সানাম, সারা দুনিয়া নিয়ে ডোবেঙ্গে।'
Aliora Insights