03/10/2026
ভুয়া পাসপোর্ট বিক্রির অভিযোগে আদালতে হোম অ্যাফেয়ার্সের দুই কর্মকর্তা
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি নাগরিকদের কাছে সর্বোচ্চ ১ লাখ র্যান্ডের বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকান পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দুই কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়েছেন।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন Aluwani Andries Netshidaulu এবং Nthombifuthi Phyllis Mokwebo। তারা Project Humulani নামের দীর্ঘদিনের তদন্তের অংশ হিসেবে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ একটি বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হন। পরে তাদের Protea Magistrate's Court-এ হাজির করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে র্যাকেটিয়ারিং, দুর্নীতি, প্রতারণা এবং ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ন্যাশনাল প্রসিকিউটিং অথরিটির (NPA) আঞ্চলিক মুখপাত্র Magaboke Mohlatlole জানিয়েছেন, তদন্তে এমন একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের ছবি ব্যবহার করে অবৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকান পাসপোর্ট তৈরি করা হতো।
তদন্তকারীদের দাবি, এসব পাসপোর্টের জন্য বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে R50,000 থেকে R100,000 পর্যন্ত নেওয়া হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট হোম অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তারা R10,000 থেকে R15,000 পর্যন্ত পেতেন। অন্যদিকে, যেসব দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করতেন, তাদের প্রায় R500 করে দেওয়া হতো।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা কয়েকশ পাসপোর্ট ব্লক ও বাতিল করা হয়েছে।
এই মামলার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানি নাগরিক Arfan Ahmad আগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি হোম অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্নীতিপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। তাকেও দুই অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আদালতে হাজির করা হয়।
Netshidaulu এবং Mokwebo-কে প্রত্যেককে R5,000 জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে Arfan Ahmad-কে আইনি প্রতিনিধি নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে এবং তদন্তও চলবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কথিত চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।