Minzu Khan

Minzu Khan নতুন নতুন ইন্টারেসটিং গল্প পড়তে আমার এই পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন❤️

30/03/2025

তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা সবাইকে।🌙

 #গোধূলির_লগ্নে_তোমার_আগমন   #সাদিয়া_তাসনিম #পর্ব৩ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। বাহিরে শীতল হওয়া বয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে খুব কর...
07/03/2025

#গোধূলির_লগ্নে_তোমার_আগমন
#সাদিয়া_তাসনিম
#পর্ব৩

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। বাহিরে শীতল হওয়া বয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে খুব করে বৃষ্টি হলো। এই যে খুব করে বৃষ্টি হলো এর ফলে ঢাকার শহরের একাংশ পানিতে চবচবে হয়ে গেছে। বৃষ্টি বেলায় সকলের মনে প্রেম প্রেম একটা ভাব নিয়ে আসে কিন্তু এই শহর? না আসে এই শহরে ভেজা কদমের গন্ধ আর না আসে মনপ্রাণ জোড়ানো স্নিগ্ধ মাটির গন্ধ।
শ্রাবণধারার বৃষ্টি নামার একটু পড়ই চিত্রা ভার্সিটি থেকে বের হয়ে একটা রিক্সা নিয়ে ছিল কিন্তু! রিকশা অর্ধেক রাস্তা আসতেই বলে কিনা সামনে আর যাবে না অবশ্য এখানে রিকশাওয়ালাকেও কোনো দোষ দিতে পারছে না চিত্রা। সামনের রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমেছে। আশেপাশের সকলের উঁচু উঁচু জায়গা দেখে সেখান দিয়ে সামনের দিকে নির্বিঘ্নে এগিয়ে যাচ্ছে। অগত্যা চিত্রাকেও এখন সেটা করতে হবে। এটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
চিত্রা রিকশা থেকে নেমে নির্দিষ্ট ভাড়ার অর্ধেক ভাড়া বের করল। চিত্রা তেলশূন্য গলায় রিক্সাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,

' এই নেন মামা।'

রিক্সাওয়ালা চিত্রার হাতে ধরা টাকাটা দেখে সেটা নিজের হাতে নিল। প্রথমে তার মুখে হাসি থাকলেও পরে যখন টাকাটার অর্ধেক দেখে তখন একটু ইতস্তত করে। তিনি টাকাটা দেখে চিত্রার দিকে তাকিয়ে নারাজি কন্ঠে বলে উঠলেন,

' আপা এই বৃষ্টি মাথায় এতোদূর এনেছি অর্ধেক টাকা কেন দেন?'

' অর্ধেক রাস্তা অর্ধেক টাকা। '

চিত্রা লোকটার দিকে তাকিয়ে এবড়োথেবড়ো করে বলে উঠলো। তার বাবা কী টাকার গাছ লাগিয়েছে যে সে অর্ধেক রাস্তা এসে সম্পন্ন টাকা দিতে? চিত্রা ভার্সিটিতে উঠার পর থেকে নিজের খরচ নিজে চালায়। সে খুব ভালো করেই এক একটা পয়সার মূল্য বোঝে। রিকশাওয়ালা মধ্যবয়স্ক লোকটা চিত্রাকে আবারও মানানোর জন্য ক্ষীণ কন্ঠে বলে উঠল,

' আপা এই বৃষ্টি মাথায় শীতে এতো কষ্ট করে আপনাকে এনেছি।'

' আমাকে এমনিতে এনেছেন মিয়া?টাকা দিনি আপনাকে?'

' কিন্তু আপা এতো কম টাকা দিয়া কী করুম?'

' ইয়া আল্লাহ! আগেও বলেছি এখনও বলছি অর্ধেক রাস্তা অর্ধেক টাকা। '

' এই গরীবের উপর একটু দয়া করেন আপা।'

' আপনি গরীব হলে আমি মিসকিন মিয়া।'

' আপা আমার টাকাটা...'

'কী সমস্যা কী এখানে? ' রিকশাওয়ালা নিজের কথাটা শেষ করতে পারলো না তার আগেই একটা ভরাট পুরুষালী কন্ঠস্বর শুনে চিত্রাসহ রিকশাওয়ালা পিছনে ফিরে তাকাল। শতাব্দ তাদের দুইজনের থেকে কিছুটা দূরে কালো রংয়ের একটা ছাতা হাতে সাদা আর কালো রংয়ের প্যান্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে।
চিত্রা শতাব্দকে দেখতেই নিজের ভ্রুঁ কুঁচকে নেয়, সাথে সাথে বিরক্তিরা তার মুখে এসে জমা হয় কিন্তু শতাব্দ হেঁসে নিজের ডান গালে টোল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ঠোঁটের কোণে খুবই স্নিগ্ধ একটা হাসি। সে হাসিতে ভুবন জুড়ে যায়। লোকটা সুন্দর অদ্ভুত সুন্দর! চিত্রা নিজের চোখটা ঘুরিয়ে নিল, এই লোকটাকে নিয়ে সে আর কিছু ভাববে না। সে আবারও রিকশাওয়ালার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,

' মামা হয়েছে যান এবার। ঝামেলা করেন না।'

' আপা আমার টাকাটা আর একটু বাড়িয়ে দেন। '

' বাড়িয়ে দিব তবে আপনাকে একটা কাজ করতে হবে।করবেন?'

চিত্রার কথাটা শুনে শতাব্দ তার দিকে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে রয়ল। সে বোঝার চেষ্টা করল মেয়েটা কী বলতে চলেছে কিন্তু সে তো চিত্রা তার পটের কথা মুখে আসতে আসতে অন্যরুপ ধারণ করে যার ফলে শতাব্দ বুঝতে পরাল না সে কী ভাবছে তা। চিত্রা রিকশাওয়ার দিকে তাকিয়ে গমগম স্বরে বলে উঠলো,

' চলেন আমাকে বাকি রাস্তা দিয়ে আসেন। '

রিকশাওয়ালা চমকাল। সে একবার রাস্তার দিকে তাকাল। এই রাস্তায় যেতে গেলে তাকে হাঁটু পানিতে নেমে রিকশা টানতে হবে এর থেকে ভালো সে না যায়। সে একবার চিত্রার দিকে তাকাল। চিত্রা তার দিকে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে আছে।
রিকশাওয়ালার কী মনে হলো সে শতাব্দের দিকে তাকাল। শতাব্দ অনেকটা অসহায় হয়ে তাকে দেখছে।
রিকশাওয়ালা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ল সে চিত্রার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো,

' অন্তরে একটু দয়া মায়া আনতে পারেন আপা।আল্লাহ ভালো করবে।'

চিত্রা শান্ত রয়ল, মুখে কোনো কথা না বলে চোখের ইশারায় তাকে চলে যেতে বলল। ঠিক তখনই চিত্রার ফোনটা বেজে উঠল। চিত্রা রিকশাওয়ালার দিকে তাকিয়ে ফোনটা তুলে বলে উঠলো " হ্যাঁ আয়াত বল।'
রিকশাওয়ালা যখন রিকশাটা ঘোরাচ্ছি ঠিক তখনই সে নিজের ওয়ালেটটা বের করে সেখান থেকে কচকচে দুই টাকার দুইটা নোট বের করে রিকশাওয়ালার হাতে ধরে মিহি কন্ঠে বলে উঠে,

' এই বৃষ্টি ওকে এই পর্যন্ত নিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ মামা।'

রিকশাওয়ালা প্রথমে ভ্যাবাচ্যাকা খেলো কিন্তু এমন ছোট ছোট ঘটনা নিত্যদিন দেখা তার জন্য। তাই সে মৃদু হেঁসে শতাব্দকে সালাম দিয়ে টাকাগুলো নিয়ে নিজের গন্তব্যে চলে যায়।
চিত্রা তখনও আয়াতের সাথে কথা বলছে। বৃষ্টি তখন ঝিরিঝিরি করে ঝরছে যার ফলে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
শতাব্দ ধীর পায়ে তার কাছে এসে দাঁড়াল। নিজের মাথায় ধরা ছাতাটা চিত্রার মাথায় ধরল। চিত্রা আয়াতের সাথে কথা বলতে বলতে একবার লোকটার দিকে তাকাল।
লোকটা মুখে সেই হাসি নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে।
মিনিট দুয়ের মধ্যে চিত্রা কথা বলা শেষ করল।সে নিজের ফোনটা ব্যাগের ভেতর রেখে শতাব্দের ধরা ছাতা থেকে বেরিয়ে বাহিরে দাঁড়াল। শতাব্দ চিত্রার এমন কাজ দেখে প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়ল। চিত্রা কটমট দৃষ্টিতে তাট দিকে তাকিয়ে গড়গড় করে বলে উঠলো,

' আপনার কাছে কোনো সাহায্য চায়নি আমি। '

' আপনি সাহায্য না চায়লেও আমি সবসময় আপনাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। '

শতাব্দ নিজের কথাটা শেষ করে উঠতে পারল না তার আগেই চিত্রা তড়াক করে মুখের উপর বলে উঠলো,

' আমি কী কখনো আপনাকে সাহায্য করতে বলেছি? '

শতাব্দ হাঁসে তার হাঁসির পিছনে লুকিয়ে থাকে গভীর এক না জানা অনুভূতি। যে নতুন অনুভূতির সৃষ্টি হয়ে ছিলো আজ থেকে দুই বছর আগে যখন প্রথমবার তানিশার সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে এক ঝলক চিত্রাকে দেখেছিল ঠিক সেই দিন থেকে তার সব অনুভূতি চিত্রাকে নিয়ে। শতাব্দ মনপ্রাণ জুড়ানো হাসি দিয়ে অতন্ত্য সবিনয়ের সহিত বলে উঠে,

' আমার সবাইকে সাহায্য করতে ভালো লাগে যে।'

' সবার সাথে দয়া করে আমাকে গোলাবেন না ভাইয়া।'

' গোলাব না কেন?'

' আমি অপরিচিত লোকজনের কাছ থেকে সাহায্য নিতে পছন্দ করি না।'

চিত্রার কথাটা শুনে শতাব্দ অনুভূতিশূন্য, স্থবির, স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়ল। মেয়েটা বলে কী? সে নাকি অপরিচিত? আচ্ছা চিত্রার এমন কথায় তার কেমন রিয়াকশন দেওয়া উচিত? সে তো চিত্রার কথাটা শুনে কোনো প্রকার রিয়াকশন দিতেই ভুলে গেল৷ হতভম্ব হয়ে সে চিত্রার পানে তাকিয়ে রয়ল। বৃষ্টির বেগ এবার বারতে শুরু করল। ছোট ছোট ফোঁটার বৃষ্টি এবার বড় বড় ফোঁটায় রুপান্তর হলো। বৃষ্টির পানির ছিটে তাদের গায়ে মাখতে শুরু করল। শতাব্দ একটু ধাতস্থ হয়ে ছাতাটা চিত্রার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে তাকে সামনে হাঁটার জন্য ইশারা করল।
চিত্রা আবারও ছাতার নিচ থেকে বেরিয়ে আসল। শতাব্দ অনেকটা আহত দৃষ্টিতে চিত্রার দিকে তাকাল তবে শতাব্দের এমন নাজুক দৃষ্টি চিত্রার উপর কোনো প্রভাব ফেললো না বরং চিত্রা গমগম আওয়াজে বলে উঠলো,

' সাহায্য করাতে এসেছেন এর জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া তবে আমার সাহায্যের প্রয়োজন নেই। '

চিত্রা কথাটা বলে কিছুটা বিরক্ত নিয়ে শতাব্দের দিকে তাকাল। লোকটা কী পাগল? এভাবে দুইজনে এক ছাতার তলে গেলে লোকজনের কথার অভাব হবে?

' আপনি কী বাসায় যাবেন?'

শতাব্দ নিজের ছাতাটা বন্ধ করতে করতে জিজ্ঞাসা করল কিন্তু চিত্রা শতাব্দের করা এতো সহজ একটা প্রশ্নের ঘুরিয়ে উত্তর দিতে ভুললো না। সে কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো,

' না ভাইয়া, সামনের দোকান থেকে সিপ কিনে এখানে,দেখেন এই হাঁটু পানিতে মাছ ধরতে বসব। বসবেন আপনি?'

চিত্রার বিরক্ত হয়ে বলা কথাগুলো শুনে শতাব্দ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ল মেয়েটাকে একটু ভালো করে কথা বলতে পারে না? সে মিহি কন্ঠে বলে উঠলো,

' সহজ কথার সহজ ভাবে উত্তর দিলে কী হয়?'

চিত্রা শতাব্দের মুখের দিকে তাকাল না। নিজের ব্যাগের মধ্যে কিছু একটা খুঁজতে খুঁজতে মৃদু কন্ঠে বলে উঠল,

' কী হবে? কিছুই হয় না।'

শতাব্দ চটপট করে চিত্রার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,

' তাহলে দেন না কেন?'

চিত্রার ভাবলেশহীন উত্তর এলো,

' মনে চায় না। '

কথাটা বলে চিত্রা সামনের দিকে পা বাড়াল। শতাব্দও ছাতাটা বন্ধ করে ওর পিছে পিছে হাঁটছে। কর্দমাক্ত ভিজে মাটিতে পা পরতেই মৃদু শব্দের সৃষ্টি হয়েছে।

চলবে...

 #হৃদয়ে_লাগিল_দোলা 🫶 #নুসাইবা_জান্নাত_আরহা  #পর্ব৫ [চড়ুইভাতি স্পেশাল(২)🕊️️]রিসোর্টে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমটাতে এসে ফ্র...
07/03/2025

#হৃদয়ে_লাগিল_দোলা 🫶
#নুসাইবা_জান্নাত_আরহা
#পর্ব৫ [চড়ুইভাতি স্পেশাল(২)🕊️️]

রিসোর্টে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমটাতে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। চোখেমুখে পানির ঝাপটা দিয়ে, এখন কিছুটা সতেজ লাগছে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বিছানার দিকে চোখ পড়তেই নজরে এলো রিশতা আর অরনীকে। দু'জন দু'জনকে জড়িয়ে সুখনিদ্রায় পাড়ি জমিয়েছে ইতোমধ্যে। আমিও আর ওদের বিরক্ত না করে বেলকনির পথে পা বাড়ালাম। এই রিসোর্টে আমাদের জন্য মোট চারটে রুম বুক করা হয়েছে। এখন যে যার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচ্ছে। একটুপর দুপুরের লাঞ্চটা সেরে একটু বিশ্রাম নিয়ে, বিকেলের দিকে ঘুরতে বের হবো।

বেলকনিতে এসে এমন শীতল হাওয়ায় আমার মনপ্রাণ জুড়িয়ে যায়। এই বেলকনি থেকে লেকের দিকটা বেশ ভালোভাবে দেখা যায়। হঠাৎ আমার নজর পড়ে শুভ্র রঙের স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত স্নানরত অবস্থায় এক সুঠাম দেহের সুদর্শন পুরুষটির দিকে! হলদে গাত্রে বিন্দু বিন্দু জমে থাকা জলকণাগুলি যেন তার সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে! পুরুষ মানুষ কি সত্যিই এতো বেশি সুন্দর হয়! তাকে এমন রূপে দেখে আমি যেন এক মুহুর্তের জন্য থমকে গেলাম। সেই সুপুরুষটি আর কেউ নন তিনি স্বয়ং আদ্রিশ ভাইয়া। আমি মনে মনে বললাম, "এই সুপুরুষটি শুধু আমারই হোক। আমার এই কিশোরী মনপ্রাণ জুড়ে তো শুধু তারই অবাধ আনাগোনা। তাঁহাকে এমন রূপে দেখিয়া যে আমার #হৃদয়ে_লাগিল_দোলা।"

-' ছিহ্ মেহু, তোর জন্য একটু গোসল করেও আমার শান্তি নেই রে। এই মেয়ে আমার সব ইজ্জত চোখ দিয়ে লুটে নিলো। এখন আমার কি হবে? এরপর তো আমার ইজ্জত নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।

আদ্রিশ ভাইয়ার কথায় আমার ভাবনার সুঁতোয় টান পড়ে। উক্ত কথাটি তিনি আমার উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিলেন। তার এহেন বাক্য চয়নে আমি প্রথমে কিছুটা বোকা বনে গেলাম। হা করে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আদ্রিশ ভাইয়ার দিকে। পরে বোধগম্য হতেই লজ্জায় আমার মুখশ্রী রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। আরও বেশি লজ্জা পেলাম তার সাথে চোখাচোখি হতেই। তিনি যেন কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখছেন আমায়! এই চোখের ভাষা বোঝার মতো ক্ষমতা হয়তো আমার মতো সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া কিশোরীর হয়নি! তার বলা কথার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো জবাব দেওয়ার আর সাহস হলোনা আমার। আমি মিইয়ে গেলাম। বেলকনিতে আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে নিজের রুমে চলে এলাম।

লজ্জায় আমি ঠিক কতক্ষণ নিজের মুখে হাত ঠেকিয়ে বসে ছিলাম তা আমার জানা নেই। ইশ আদ্রিশ ভাইয়া কি ভাবল আমায় নিয়ে? এসব ভাবতেই একরাশ লজ্জারা এসে ঘিরে ফেলল আমায়। মায়ের ডাকে আমার ভাবনাগুলোকে মাটিচাপা দিয়ে দরজা খুলতে যেতে হলো। বুঝলাম মা খাওয়ার জন্য ডাকতে এসেছেন। আমিও আর দেরি না করে রিশতা, অরনীকে ডাকলাম। ওরা ঘুম থেকে উঠে পড়লো। আড়মোড়া ভেঙে ফ্রেশ হয়ে তড়িঘড়ি করে নিচে চলে এলাম।

লেকের ধারে আমাদের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। বাবুর্চিদের রান্না প্রায় শেষের পথে। কি আশ্চর্য সামান্য এক চড়ুইভাতিকে এমন বিরাট খানদানি আয়োজন বানিয়ে ফেলল দেখছি এরা! এটাকে তো তাহলে আর চড়ুইভাতি বলা যায়না, বড়লোকদের বিশাল খানদানি খানাপিনা বলা উচিত! আমার আর বুঝতে একটুও বেগ পেতে হলো না, এসব এলাহি কান্ড কার কারসাজি। চড়ুইভাতি নামে এমন এলাহি কাণ্ড কারখানা একমাত্র আদ্রিশ পাগলা দ্বারাই সম্ভব!

আমরা যে যার মতো একেবারে গোল হয়ে বসে পড়লাম। খাওয়ার মাঝে একবার আদ্রিশ ভাইয়ার সাথে আমার চোখাচোখি হতেই আমি আবারও লজ্জায় কুঁকড়ে গেলাম। ইশ তখন আমি কেন নিজের বেহায়া মনটাকে নিয়ন্ত্রণ করলাম না? আর ঠিকই আদ্রিশ ভাইয়ার শকুনের মতো দৃষ্টির কাছে ধরাও পড়ে গেলাম আমি!

খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকিয়ে আমরা যে যার মতো রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে নিলাম। এরপর বিকেলের দিকে বের হলাম একটু ঘুরাঘুরির জন্য।

আদ্রিশ ভাইয়া আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল

-' চল ঐদিকটা থেকে ঘুরে আসি।

আমি কিছু বলার পূর্বেই পাশ থেকে রিশতা মলিন কণ্ঠে বলে উঠল

-' শুধু মেহুকেই নিয়ে যাবেন, আমাদের নিবেন না ভাইয়া?

আদ্রিশ ভাইয়া আলতো হেসে বলল

-' চল তবে..।

আমরা একটা পার্কে এসেছি ঘুরতে। এই সাইডটাতে যে পার্ক আছে খেয়াল করিনি আমি। আমাদের সাথে আলভি ভাইয়াও এসেছিল, তবে কি একটা কাজের কথা বলে সরে পড়ল।

আদ্রিশ ভাইয়া হুট করে এসে আমায় বলল

-' ফুচকা খাবি মেহু?

আমি মাথা নাড়িয়ে সায় জানাই। আমার ফুরফুরে মেজাজটা আরও ফুরফুরে হয়ে গেল। আদ্রিশ ভাইয়া এতো ভালো কেন তুমি? আমি মুখ কোনো কথা বলার আগেই আমার মনের কথা ঠিকি বুঝে ফেলে মানুষটা! আমার সাথে সাথে আদ্রিশ ভাইয়ারও ফুচকা ভীষণ প্রিয়। ছেলে মানুষেরও যে ফুচকা পছন্দ তা আদ্রিশ ভাইয়াকে না দেখলে হয়তো জানতামই না।

এক, দুই, তিন,...., এই নিয়ে গুনে গুনে দশ প্লেট ফুচকা খেয়েছি। আর এটা শুধু ফুচকা নয়, এর মধ্যে লঙ্কা কুচি, গুড়ো মেশানো ছিল। ঝালে আমার চোখমুখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে ইতোমধ্যে। আদ্রিশ ভাইয়া দ্রুত পানি নিয়ে এসে আমার দিকে এগিয়ে দেয়। আমি এক নিঃশ্বাসে ঢকঢক করে পানি গিললাম। উফফ এবার যেন একটু স্বস্তি পাওয়া গেল।

আদ্রিশ ভাইয়া গম্ভীর কণ্ঠে বলল

-' একটু দেখেশুনে খেতে পারিস না মেহু? জানিস যে খুব বেশি ঝাল সহ্য হয়না তোর। তাও কেন এতো ঝাল খেতে গেলি, বল তো?

আমি কোনোরকম নাক টেনে আলতো হেসে বললাম

-' এটাই তো ফুচকা খাওয়ার আসল মজা।

আদ্রিশ ভাইয়া অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলল

-' মজা না ছাঁই! গায়ে পায়েই বড় হয়েছিস শুধু। বুদ্ধি জ্ঞান এখনো হয়নি কিছু। আমি কি সবসময় তোর সাথে থাকবো?

আদ্রিশ ভাইয়ার কথা শুনে আমি ফিক করে হেসে ফেললাম। পাশে থাকা অরনী আর রিশতাও হেসে ফেলল। তবে আমার এই হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না আর।

হঠাৎ পেছন থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয়ের মেয়ে এসে আদ্রিশ ভাইয়াকে ডাক দেয়। সে পেছন ফিরে মেয়েটাকে দেখতেই অধরের কোণে হাসি ফুটিয়ে উচ্ছাসের সহিত বলে উঠল

-' আরে তুমি এখানে? এতোক্ষণে আসার সময় হলো তবে?

মেয়েটা হালকা হেসে আদ্রিশ ভাইয়ার পাশে এসে দাঁড়ায়। আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম মেয়েটার দিকে। মেয়েটা যথেষ্ট সুন্দরী, তার বেশভুষাও বেশ ভালো। তাকে দেখে বেশ ভালো পরিবারেরই মেয়ে বলে মনে হচ্ছে। তবে মেয়েটাকে আদ্রিশ ভাইয়ার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার ভেতরটা কেমন মোচর দিয়ে উঠল। আমি আদ্রিশ ভাইয়ার পাশে কাওকেই সহ্য করতে পারিনা।

আদ্রিশ ভাইয়া একগাল হেসে আমাদের সাথে মেয়েটার পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল

-' এই যে কাজিন সিস্টারস্, আমার পাশে এখন যে মেয়েটাকে তোরা দেখছিস, এই মেয়েটা কিন্তু তোদের ভাবি হয়, বুঝলি? পছন্দ হয়েছে তো তোদের ভাবিকে?

আদ্রিশ ভাইয়ার থেকে এমন কথা শুনতে হবে তা আমি কস্মিনকালেও কল্পনা করিনি। আমার নিজের অজান্তেই চোখ ছাপিয়ে অশ্রু গরিয়ে পড়ছে। আমার এতোক্ষণের আনন্দ সব বন্যায় পরিণত হলো! আমি অশ্রু সিক্ত নয়নে চেয়ে রইলাম আমার আদ্রিশ ভাইয়ার দিকে। আমার আদ্রিশ ভাইয়া আর আমার রইল না। সে তবে সত্যিই অন্য কারো হয়ে গেল? এতোদিন আমার জন্যে যা যা করতো সব মিথ্যে, সব অভিনয় ছিল, তার মানে!

হুট করে আদ্রিশ হতে এমন কথা শুনে রিশতা আর অরনীও বোকা বনে যায়। ওরা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল আদ্রিশের দিকে।

আমি সেখানে আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে না থেকে ছুটে চলে গেলাম। আমার এতোদিনের সব স্বপ্ন সব ভেঙে একেবারে চুরমার করে দিল আদ্রিশ ভাইয়া।

মেহরুনের চলে যাওয়ার পানে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল আদ্রিশ। মনে মনে সে আওড়াল, "মেহু, হঠাৎ এমনভাবে চলে গেল কেন? ওর কি পছন্দ হয়নি ওর ভাবিকে?"

#চলবে....

 #পড়শি_প্রেম #পর্ব_৫ #মুন্নি_আক্তার_প্রিয়া__________________চিঠিটা মুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে গিয়েও থেমে গেল অনুভা। অদৃশ্য ক...
07/03/2025

#পড়শি_প্রেম
#পর্ব_৫
#মুন্নি_আক্তার_প্রিয়া
__________________
চিঠিটা মুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে গিয়েও থেমে গেল অনুভা। অদৃশ্য কোনো শক্তি যেন তাকে আটকে ফেলল। মোচড়ানো কাগজের ভাঁজ খুলে আরেকবার পড়ল সে। তারপর ভাঁজ করে রেখে দিল গোলাপফুলের তাকে। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে নিনাদের বাড়িটা দেখে একবার ওপরে তাকাল অনুভা। অদ্ভুতভাবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা নিনাদের সাথে ওর চোখাচোখি হয়ে গেল। আরো অদ্ভুত বিষয় হলো নিনাদ অনুভাকে দেখে মৃদু হাসল। অনুভা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়েই চুপচাপ নিজের বাসায় চলে গেল।

বাড়িতে ফিরে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ মামার সঙ্গে গল্প করল অনুভা। এরপর রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ল। কাল সকালে আবার নয়টায় ক্লাস।

রাতে খেতে বসে আশরাফুল ইসলাম নিনাদকে জিজ্ঞেস করলেন,

"এখন তোমার শরীরটা কেমন?"

নিনাদ খাবার মুখে তুলে বলল,

"কিছুটা ভালো।"

"শরীরের যত্ন নাও ঠিকমতো। তোমার দাদা ফোন করেছিলেন। তোমাকে দেখার জন্য উতলা হয়ে আছেন তোমার দাদি। এখন এই শরীর নিয়ে তো তারা জার্নি করে এতদূর আসতে পারবে না গ্রাম থেকে। তুমিও এখনো পুরোপুরিভাবে সুস্থ হও। মুশকিলে পড়ে গেলাম।"

নিনাদ দাদা-দাদির খুব বড়ো ভক্ত। দেশে আসার পর সেও খুব করে এই মানুষ দুটোকে মিস করছিল। পরিকল্পনা ছিল বন্ধুদের সাথে ঘুরে আসার পর গ্রামে যাবে। কিন্তু তার আগেই তো দুর্ঘটনা ঘটে গেল। সে বাবার উদ্দেশে বলল,

"এখন তো মোটামুটি সুস্থই বলা চলে। আপুকে নিয়ে কাল গ্রামে চলে যাই?"

"যেতে পারবে?"

"পারব। সাথে আমার বন্ধুদেরও নিয়ে যাব। হ্যাং আউট না হয় এবার গ্রামে করলাম।"

"হ্যাঁ, এটা ভালো আইডিয়া।"

প্রীতি খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলল,

"ইয়ে! আমরা ঘুরতে যাব!"

আশরাফুল ইসলাম দুষ্টুমি করে বললেন,

"তুমি তো যাচ্ছ না। তুমি আমাদের সঙ্গে থাকবে।"

প্রীতি গাল ফুলিয়ে বলল,

"না! আমিও যাব গ্রামে। মামা আমাকে নেবে না?"

নিনাদ হেসে বলল,

"অবশ্যই। আমার মামনিকে কি রেখে যাব নাকি?"

প্রীতি খুশি হয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে নিনাদের গালে চুমু খেল এবং আশরাফুল ইসলামের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কাটল।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে নিনাদ নিজের রুমে গিয়ে আগে বন্ধুদের কল করে জানাল। কেউই গ্রামে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো আপত্তি করেনি। রাতেই নিনাদ সবার জন্য ট্রেনের টিকিট কেটে ফেলল। নাজমা বেগম এসে ছেলের ব্যাগ গুছিয়ে দিলেন। বারবার সতর্ক করে বললেন সাবধানে থাকার জন্য। মা চলে যাওয়ার পর লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ল নিনাদ। চোখের পাতা বন্ধ করতেই অনুভার হাসিটা দেখতে পেল সে। সঙ্গে সঙ্গে চোখ খুলে ফেলল। কতক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে উশখুশ করতে লাগল। বিড়বিড় করে বলতে লাগল,

"অদ্ভুত ব্যাপার!"

সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে নিল সবাই। রেলস্টেশন পর্যন্ত যাবে বাড়ির গাড়ি দিয়েই। প্রীতিকে নিয়ে নিনাদ আগে উঠে বসল। দুজনে যখন দুষ্টুমি করছিল তখন প্রীতি হঠাৎ বলে উঠল,

"মামা, ঐ দেখো রাগী আন্টি যাচ্ছে!"

নিনাদ শুভ্র কাচ ভেদ করে দেখতে পেল ব্যস্ত পায়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে অনুভা হেঁটে যাচ্ছে। স্কাই ব্লু জিন্সের সাথে হলুদ রঙের কুর্তি পরেছে। চুলগুলো ছেড়ে রাখা। দেখতে সুন্দর লাগছে। হুঁশ ফিরতেই আবার মনে মনে বিব্রত হলো সে। নিজেকেই নিজে গালমন্দ করতে লাগল। এসব কী হচ্ছে তার সাথে!

অনুভা ক্যাম্পাসে পৌঁছে আগে রিমাকে কল করল। রিমা এখনো এসে পৌঁছায়নি। গাড়িতে আছে। সিঁড়ি দিয়ে দুই তলায় ওঠার সময় লিখনের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। লিখন অনুভার দুই ব্যাচ সিনিয়র কিন্তু একই ডিপার্টমেন্টে পড়ে। সে সিঁড়ি দিয়ে নামছিল। অনুভাকে দেখে পথরোধ করে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল,

"হেই অনুভা, তোমাকেই খুঁজছিলাম।"

"কেন?"

"কথা আছে তোমার সাথে।"

"বলুন।"

"তোমার কি ক্লাস আছে এখন?"

অনুভা হাতঘড়িতে সময় দেখে বলল,

"এখনো বিশ মিনিট বাকি আছে।"

"তাহলে কি ক্যান্টিনে বসবে অথবা অডিটোরিয়ামে?"

অনুভা এবার বিরক্ত হয়ে বলল,

"এত খেজুরে আলাপ করার মতো সময় কিংবা ধৈর্য কোনোটাই নেই। কী বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন?"

"তুমি সবসময় এত রেগে কেন থাকো, অনু?"

"অনুভা।"

"সরি?"

"আমার নাম অনুভা।"

"জানি। ছোটো করে অনু বলে ডাকলে সমস্যা আছে?"

"আছে।"

লিখন দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,

"ঠিক আছে। ছাড়ো এসব। তুমি নাচতে পারো?"

অনুভা দুহাত বগলদাবা করে দাঁড়িয়ে বলল,

"নাচাতে পারি।"

"এই, এই এভাবে তাকিও না! আমি কিন্তু মজা করছি না। কিছুদিন পর ভার্সিটিতে প্রোগ্রাম হবে জানোই তো। তাই যারা যারা নাচ, গানে নাম দেবে তার লিস্ট করছি। গতকাল তোমাদের ক্লাসে গিয়েছিলাম। তুমি ছিলে না তখন।"

"আপনি আমাকে কখনো নাচতে দেখেছেন?"

"না। তবে গান গাইতে দেখেছি।"

"তাহলে এখন নাচ দেবো এটা কেন মনে হলো?"

লিখন আমতা আমতা করে বলল,

"না মানে এমনি মনে হলো আরকি! মানুষ তো আর সবসময় এক ডিসিশনেই থাকে না।"

"আমি থাকি।"

বলে অনুভা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। পেছন থেকে লিখন বলল,

"ভালোবাসার মানুষের ক্ষেত্রেও?"

অনুভা পেছনে তাকিয়ে বলল,

"কখনো যদি কাউকে ভালোবাসি, তখন আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব।"

অনুভা চলে যাওয়ার পর লিখন নিজেই স্বগতোক্তি করে বলতে লাগল,

"এই কঠিন মেয়ের মন কোন ছেলে গলাতে পারবে আল্লাহ্ ভালো জানেন!"
গ্রামে গিয়ে নিনাদের সময় কাটছিল ব্যস্ততায়। গ্রামের প্রায় অর্ধেক মানুষই নিনাদকে দেখতে চলে এসেছে। সেই যে ছোটোবেলায় দেখেছিল! এছাড়া বন্ধু-বান্ধব নিয়ে গ্রাম ঘুরে বেড়ানো, পিকনিক করা এসব করেই সময় কাটছিল। কিন্তু ব্যস্ততার সুতা কাটে রাতে। ফ্রি হয়ে ঘুমাতে যাওয়ার সময়। ঐ সময়টায় অনুভাকে এত বেশি মনে পড়ে! বিশেষ করে হাসিটা। নিনাদ কিছুতেই এই হাসির কথা ভুলতে পারে না। অথচ এর আগে কখনো এমনটা হয়নি। তাহলে অনুভার ক্ষেত্রে কেন এমনটা হচ্ছে? ও তো শুরু থেকেই সহ্য করতে পারত না। আর সেই অসহ্যকর মানুষটার হাসিই হঠাৎ করে এভাবে মন কেড়ে নিল?

নিনাদ থমকাল। দ্রুত শোয়া থেকে উঠে বসল। মন কেড়ে নেওয়া মানে কী? মেয়েটা কি মনেও জায়গা করে নিয়েছে অলরেডি? উফ না! নিনাদের পাগল পাগল লাগছে। নিজের এই সত্তাকে সে কিছুতেই চিনতে পারছে না। এটা কিছুতেই আগের নিনাদ হতে পারে না। কখনোই না। এমন করে বদলে যাওয়ার কোনো মানে হয়? নিনাদ মনে মনে ঠিক করল, সে অনুভাকে নিয়ে আর ভাববে না। হাসি নিয়েও আর মাথা ঘামাবে না। যদি মনে পড়ে তাহলে এড়িয়ে যাবে। মনে মনে মৌনব্রত করে শুয়ে পড়ল নিনাদ।

সকালে ঘুম ভাঙল সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখে। অফ হোয়াইট রঙের একটা গাউন পরে অনুভা হেঁটে যাচ্ছে। পেছন পেছন দৌঁড়াচ্ছে নিনাদ। তবুও সে অনুভার নাগাল পাচ্ছিল না কোনোভাবেই। একসময় বিরক্ত হয়ে সে দাঁড়িয়ে পড়ে। এতক্ষণ দৌঁড়ানোর জন্য এখন হাঁপাচ্ছে। ক্লান্ত শরীর নিয়ে সে গাছের নিচে বসে পড়ল। হাতে সুন্দর একটা ক্রাউন। অনুভাকে দেওয়ার জন্যই এনেছিল। কিন্তু পরাতে আর পারল কই? সে তো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার ক্লান্ত চোখজোড়ার সামনে সুন্দর দুখানা পা দৃশ্যত হয়ে উঠল। চোখ তুলে তাকানোর পূর্বেই একটা পেলব হাত এগিয়ে এলো তার দিকে। নিনাদ চোখ তুলে তাকাল। সেই মনকাড়া হাসিমুখ। অনুভা কিছুটা ঝুঁকে দাঁড়িয়ে এক হাত নিনাদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তীক্ষ্ণ চাহনিতে নিনাদ চোখ মেলাতে পারছে না। মোহাবিষ্ট হয়ে সে অনুভার হাতে হাত রাখল। অনুভার নরম হাত ধরেই উঠে দাঁড়াল সে। তখনো তার মুগ্ধ দৃষ্টি অনুভার দিকে। অনুভা নিনাদের অন্য হাতের দিকে তাকিয়ে বলল,

"ক্রাউন পরিয়ে দেবে না?"

নিনাদ মৃদু হাসল। বলল,

"তোমার জন্যই তখন অবশ্যই পরাব।"

অনুভা কিছুটা মাথা নত করল। নিনাদ ওর মাথায় ক্রাউন পরিয়ে দিয়ে বলল,

"এখন একদম পরি মতোই লাগছে।"

"তোমার পরির মতো?"

"উঁহু! আমার রানির মতো।"

অনুভা আবারও সেই পাগল করা হাসিটি হাসল। বলল,

"তাই? ঠিক আছে তাহলে তোমার রানিকে ধরে দেখাও দেখি?"

বলেই অনুভা আবারও দৌঁড় দিল। হাত বাড়িয়ে ছুঁতে যাওয়ার আগেই ঘুম ভেঙে গেছে নিনাদের। বসে বসে পুরো স্বপ্নটা মনে করার চেষ্টা করছে সে। যাকে ভুলে থাকার জন্য গতকাল রাতে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল তাকে নিয়েই এখন স্বপ্ন দেখা হচ্ছে? আসলে কাউকে ভুলতে চাওয়াই উচিত নয়। নিনাদের এত অস্থির, অস্থির লাগছে! স্বপ্নটা দেখার পর থেকেই অনুভাকে দেখার জন্য মনটা ছুটে যাচ্ছে। সে মাথা চুলকে বিড়বিড় করে নিজেকে বলছে,

"অ্যাম আই ইন লাভ উইথ হার?"

চলবে...

07/03/2025

𝐍𝐨𝐭𝐡𝐢𝐧𝐠 𝐢𝐬 𝐩𝐨𝐬𝐬𝐢𝐛𝐥𝐞 𝐰𝐢𝐭𝐡𝐨𝐮𝐭 𝐀𝐥𝐥𝐚𝐡.✨🖤

– আল্লাহ'র প্রতি আস্থা আর বিশ্বাস,
আপনাকে সাফল্যের পথ দেখাবে...|❤️

ইনশাআল্লাহ"।🧡

 #আলোছায়াতে_প্রণয়াসক্তি #নুরুন্নাহার_তিথী #পর্ব_৭বিকেলে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর মিস্টার নয়নকে খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। গলা ...
06/03/2025

#আলোছায়াতে_প্রণয়াসক্তি
#নুরুন্নাহার_তিথী
#পর্ব_৭
বিকেলে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর মিস্টার নয়নকে খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। গলা ছেড়ে স্ত্রীকে চা বানাতে বলে ব্যালকনির কাঠের চেয়ারে গিয়ে বসলেন। মিসেস আয়েশা চা নিয়ে এসে কঠোর ভঙ্গিতে টেবিলে তা রাখলেন। নিঝুমের বিয়ের দিনের পর থেকে স্বামীর সাথে তার অতিরিক্ত রা নেই। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলেন না। চায়ের কাপ রেখে চলেই যাচ্ছিলেন তখন মিস্টার নয়ন তাকে ডাকলেন,

"শোনো আয়েশা, খুশির খবর আছে৷ আমার কম্পানির সব লোন পরিশোধ হয়ে গেছে। নতুন প্রজেক্টটাও শীগ্রই শুরু হতে যাচ্ছে৷ দেখবে এই প্রজেক্টটাতে চৌধুরী কম্পানি আবার নিজের পুরোনো রূপে ফিরবে।"

"ওহ। ভালো।"

মিসেস আয়েশার এই সামান্য অভিব্যক্তিহীন প্রত্যুত্তরে নিরাশ হলেন মিস্টার নয়ন। এতোটাও অনাগ্রহের সংবাদ তো সে দেয়নি। কম্পানির দূরাবস্থার সময় তো আয়েশাই তাকে সাহস দিয়েছে। যখন রাত-দিন চিন্তার চাদরে ডুবে থাকতেন, তখন তো স্বীয় স্ত্রীর আশ্বাসবাণীতেই শান্ত হতেন। তবে আজ যখন ভালো সময় আসছে, তবে কেন এতো অনাগ্রহ? তিনি বললেন,

"তোমায় দেখে মনে হচ্ছে খুশি হওনি।"

ঘাড় ঘুরিয়ে ত্যাক্ত দৃষ্টিতে চাইলেন মিসেস আয়েশা। খরখরে কণ্ঠে বললেন,
"কারও জীবন নষ্ট করে নিজেদের উন্নতিতে খুশি হওয়ার কথা? তোমার মতো অতো পাষাণ তো নই আমি।"

মিস্টার নয়ন চোখ থেকে চশমাটা খুলে রাখলেন। আর বললেন,
"কন্যা আমার না হলেও কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা আমি। সুপাত্র হাতছাড়া করিনি। এতে যদি আমার ব্যাবসায় একটু উন্নতি হয় তো ক্ষতি কী?"

"জায়ান আহমেদ যদি সুপাত্র হয় তবে তুমি থাকো তোমার সুপাত্র নিয়ে।"

তাচ্ছিল্য স্বরে বলেই মিসেস আয়েশা স্থান ত্যাগ করলেন। পাছে মিস্টার নয়ন বললেন,
"একদিন তুমিও জায়ানকে সুপাত্র বলবে।"
অতঃপর চায়ের কাপ উঠিয়ে নিলেন।

----
সকাল সকাল ইউনিভার্সিটির জন্য তৈরি হয়ে নিয়েছে নিঝুম। আলফিও অফিসের জন্য তৈরি। সাদা শার্টের সাথে কালো টাই ও কালো প্যান্ট। হাতে কালো ব্লেজার। ফর্মাল লুক। শার্টের স্লিভস কনুই অবধি গোটাতে গোটাতে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। আর বলছে,
"ব্রেকফাস্টে এগ স্যান্ডুইচ ও ফ্রুটস।"

নিঝুম হা করে চেয়ে আছে আলফির দিকে। তার অক্ষিগোলকের নড়নচড়ন নেই৷ পলক ফেলতেও যেন ভুলে গেছে। আলফি নিঝুমের সামনে এক হাত পরিমাণ দূরত্বে দাঁড়ায়। তারপর ভ্রুঁ নাচালে নিঝুমের সম্বিৎ ফেরে। সে আমতাআমতা করে বলে,
"চলো নাস্তা করি।"

তারপর সে দ্রুত ডাইনিং টেবিলের কাছে যায়। আলফি মৃদু হাসে। সেও নাস্তা খেতে বসে। নাস্তা খেতে খেতে নিঝুম আর একবারও চোখ তুলে তাকায়নি। আলফির খাওয়া আগে শেষ হয়৷ সে নিজের প্লেট ধুঁয়ে রেখে সোফা থেকে ল্যাপটপ তুলে নেয়। ততক্ষণে নিঝুমেরও খাওয়া শেষ। তারপর দুজনে বের হয়। গাড়ি চলছে তার গতিতে। হঠাৎ নিঝুম প্রশ্ন ছুঁড়ে,

"তুমি কীসে জব করো?"

"কেন?"

"এরকম বস বস ভাইবে যাচ্ছো তো তাই।"

আলফি হাসলো। তারপর বলল,
"তেমন কিছু না। এটা আমার ড্রেসকোড।"

কিছুক্ষণ পর ওরা ইউনিভার্সিটিতে পৌঁছায়৷ নিঝুম আলফিকে বায় বলে যেতে নিলে আলফি ডেকে বলে,
"কারও সাথে আননেসেসারি কথা বলার দরকার নেই।"

নিঝুম সন্দিহান হলো। বলল,
"ইউনিভার্সিটিতে ফ্রেন্ড বানাব না?"

"বানাবে৷ কিন্তু বুঝেশুনে। আমার সাথে তোমার পরিচয়ের সময় তুমি যেমন ছিলে, তেমনটা সবার প্রতি হয়ো না। এটাই বুঝিয়েছি।"

নিঝুম ভ্রুঁকুটি করে শুধায়,
"কেমন ছিলাম?"

হাসে আলফি৷ বলে,
"ছটফটে একটা দূরন্ত মেয়ে। কনভারসেশন স্টার্ট তোমার মাধ্যমেই। এখন যাও। লেট হচ্ছে। বায়।"

নিঝুম মিষ্টি করে হেসে আলফিকে হাতের ইশারায় বায় বলে চলে যাচ্ছে৷ আলফি কাউকে ফোন করে বলে,
"কিপ এন আই অন হার।"

-----
দিনের মধ্যাহ্ন। নিঝুম ক্যান্টিনে খাবার কিনে বসেছে। খাবারে চামচ নাড়তে নাড়তে ভাবছে, তার সাথে করে আনা টাকা (ডলারে কনভার্ট করা) দিয়ে বেশিদিন চলবে না। তারপর কীভাবে চলবে? আলফির বাড়িতে থাকছে বলে লিভিং কস্ট দিতে হচ্ছে না। কিন্তু একজনের বাড়িতে কতোদিনই বা থাকা যায়? তারউপর একটা ছেলের সাথে এক বাড়িতে। এখন পার্টটাইম জবও তো সহজে পাওয়া যাবে না। নির্ঝরের কাছেই চাইতে হবে৷ কিন্তু ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে যদি ওর বড়ো আব্বু জেনে যায়? ভেবেছিল ডিভোর্স হয়ে যাবে। তাহলে বড়ো আব্বু জানলেও সমস্যা নেই৷ কিন্তু এখন বড়ো আব্বু জানা মানে জায়ানেরও জানা। এসব চিন্তা করতে করতেই বেখেয়ালিতে খাচ্ছে। তখনি নিজের সামনের চেয়ারে কাউকে বসতে দেখলো। ব্যাক্তিটিকে সে চেনে। আলফির বন্ধু অ্যালেক্স। অ্যালেক্সই প্রথমে 'হাই নিঝুম' বলল। নিঝুমও সৌজন্যে উত্তর করে। অ্যালেক্স বলে,

"ফার্স্ট ডে এট দ্যা ইউনিভার্সিটি। হাউ ডু ইউ ফিল?"

"গুড।"

"জাস্ট গুড? ইই ডিডেন্ট মেক এনি ফ্রেন্ডস?

নিঝুম প্রত্যুত্তরে স্বল্প স্বরে বলল,
" নট ইয়েট।"

তৎক্ষনাৎ অ্যালেক্স প্রস্তাব দিলো।
"কুড উই বি ফ্রেন্ডস?"

ইতস্তত করছে নিঝুম। কিন্তু অ্যালেক্স সেসব পাত্তা না দিয়ে হুট করে নিঝুমের হাতের সাথে হাত মিলিয়ে বলে,
"ফ্রেন্ডস!"

অপ্রস্তুত হাসলো নিঝুম। অ্যালেক্স বলে,
"আই হিয়ার, ইউ আর ম্যারিড?"

ভড়কালো নিঝুম। বলল,
"হাউ ডু ইউ নো?"

"আলফি টোল্ড মি দিস।"
আলফির কথা শুনে নিঝুম নিভলো৷ আলফিটা সবার কাছে ও-কে বিবাহিতা বলে পরিচয় করাচ্ছে কেন? আর সেও বারবার তার বিয়ের টপিকটা নিয়েও বলে। নিঝুম আর অ্যালেক্সকে কৃত্রিম হাসি দিয়ে চটজলদি খেতে থাকে। তারপর ক্লাসের বাহানায় উঠে পড়ে।

------
বিকেলে ইউনিভার্সিটির গেইটে আলফির জন্য অপেক্ষা করছে নিঝুম। আলফি বলেছে সে প্রায় চলে এসেছে। মিনিট দুয়েক পর আলফির গাড়ি থামে। নিঝুম গাড়িতে উঠে বসে। গাড়ি চলছে সেই সাথে পরিবেশেও নিরবতা। আলফি বলে,

"কেমন কাটলো দিন?"

"ভালো।"

নিঝুমের সংক্ষিপ্ত জবাবে আলফি হালকা পাশ ফিরে দেখলো। নিঝুম সিটে গা এলিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। আলফি শুধালো,
"মন খারাপ?"

নিঝুম এবার সোজা হয়ে বসলো। কাটকাট স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়লো,
"তুমি অ্যালেক্সকে বলেছ, আমি ম্যারিড?"

কথাটা ও বলার ধরণ ভালো লাগলো না আলফির। সে গাড়ি থামালো। এটা একটা পার্কের সামনে। খোলাম মাঠ। সকল বয়সের মানুষজন এখানে হাঁটাহাঁটি করছে। বাচ্চারা খেলছেও। আলফি গাড়ি থেকে নামে। তারপর নিঝুমের সাইডের দরজা খুলে নামতে বলে। নিঝুম বুঝলো না হঠাৎ কেন গাড়ি থামালো৷ নিঝুম গাড়ি থেকে নেমে আসলে ওরা পার্কের ভেতরে যায়৷ হাঁটতে হাঁটতে আলফি বলে,

"অ্যালেক্স একটু অন্যরকম। যাকে বলে প্লেবয়। ও এই পর্যন্ত অনেক মেয়ের সাথে রিলেশনে গেছে। বলতে পারো এটা ওর হবি। রিসেন্ট যার সাথে রিলেশনে আছে, সেই মেয়েটা খুব ভালো৷ ও-কে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করতো। কিন্তু অ্যালেক্স বলছে ওর সাথেও ব্রেকাপ করে ফেলবে। হতেও পারে ও তোমার প্রতি ইন্টারেস্টেড। তাই বলে রাখলাম। যাতে তোমাকে ডিস্টার্ব না করে।"

"ওহ। আমি অ্যালেক্সের সাথে কোনো সম্পর্কে জড়াবার কোনো ইন্টারেস্টই নেই৷ তাও সে এসে ফ্রেন্ডশিপ করতে চাইলো।"

"ওর শুরুটা এমনি। তুমি ওর সাথে বেশি কথা বলো না।"

এরপর ওরা পার্কের একটা বেঞ্চে বসলো। সামনেই বাচ্চারা ফেনা বেলুন উড়িয়ে খেলছে। নিঝুম মুগ্ধ হয়ে সেসব দেখছে। পার্কের প্রতিটি কোণায় প্রকৃতির শরতের ছোঁয়া। মৃদুমন্দ শীতল বাতাস বইছে। আকাশ পরিষ্কার। তুলোর মতো মেঘ উড়ে বেড়াচ্ছে। নিঝুম বলল,
"এই সুন্দর ওয়েদারে চা হলে বেশ হতো।"

আলফি কথাটা শুনে উঠে গেলো। কিছুক্ষণ পর দু কাপ কফি নিয়ে হাজির। বলে,
"কফি হবে। চা হবে না।"

নিঝুম মুচকি হেসে কফির কাপটা নিলো। তারপর দুজনে একসাথে বসে পার্কের পরিবেশ উপভোগ করতে লাগলো।

-----
কিছুদিন পেরিয়ে গেলো এভাবেই। নিঝুম পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত৷ নির্ঝরকে বলে রেখেছিল জায়ানের ছবি একটা তাকে কালেক্ট করে দিতে। জায়ানের কোনো মুখ দেখানো ছবি অনলাইনেও নেই। চোখে কালো গ্লাস ও মুখে মাস্ক সহ ছবিই সব। নির্ঝর বলেছে পেলে তাকে দেখাবে।
আজ নিঝুমের ইউনিভার্সিটিতে ছুটির দিন। আলফিকে অফিসে যেতে হয়েছে৷ নিঝুম বাড়িতে একা। কিছুক্ষণ পড়ে নিঝুম বাড়ির পেছনে চলে গেলো। আলফি বলেছে সে অনলাইনে খাবার অর্ডার করে পাঠিয়ে দিবে। কারণ নিঝুম খুব একটা রান্না পারে না। তাই অলস সময় কাটাতে বাড়ির পেছনে এসেছে৷ জায়গাটা সে দিনের আলোয় আজকেই দেখছে৷ দিনের আলোয় খুব সুন্দর লাগছে৷ গতকাল রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। যার দরুণ গাছের পাতাতে এখনও পানি লেগে আছে। নিঝুম বৃষ্টিসিক্ত কমলা বর্ণের ম্যাপল পাতার ছবি তুলছে। আপেল গাছের আপেলগুলোতেও রঙ হয়েছে। ইচ্ছে করলো একটা গাছ থেকে পেরে খেতে। তাই করলো সে। আপেলের স্বাদটাও খুব মিষ্টি৷ তখনি মেইন গেইটের বেল শুনতে পেলো। নিঝুম ছুটে গেলো সেদিকে। তারপর খাবারের পার্সেল রিসিভ করে নিয়ে আসলো। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই আলফির কল। কল রিসিভ করে। আলফি বলল,

"এখানে দুজনের খাবার আছে৷ আমি আসছি। একসাথে খাব। তারপর একটু বেরোবো। তোমার তো অটোয়া দেখা হয়নি।"

নিঝুম সানন্দে রাজি হয়ে সায় দিয়ে ফোন কাটে। এদিকে বাড়ির ভেতরে আসতেই নেট কানেক্ট হয়েছে। নির্ঝরের মেসেজও এসেছে। নির্ঝর বলেছে,
"আজকেই জায়ানের ছবি পাওয়া যাবে৷ একজনকে বলেছে। একটু সময় লাগবে।"

নিঝুম অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে। যার সাথে তার বিয়ে হলো তাকে সে আজ প্রথমবার দেখবে।

চলবে......

 #সুগন্ধি_ফুল  #পর্ব_৮ #জান্নাত_সুলতানাদীর্ঘ দিন আবরাজ বিদেশে ছিলো। সাধারণ মানুষের নিকট তার লাইফস্টাইলে অস্বাভাবিক। প্রা...
06/03/2025

#সুগন্ধি_ফুল
#পর্ব_৮
#জান্নাত_সুলতানা

দীর্ঘ দিন আবরাজ বিদেশে ছিলো। সাধারণ মানুষের নিকট তার লাইফস্টাইলে অস্বাভাবিক। প্রায় বিদেশিদের মতো চলাফেরা পুরুষ টার। পোশাকআশাক থেকে শুরু করে কথাবার্তা খাবার-দাবার এভরিথিং। ফিজা এ-সব আগে থেকে জানতো। যেহেতু তার মা এক সময় ওই অফিসে জব করতো তখন শুনেছিলো মিলন খান এর বড়ো ছেলে বিদেশ পড়াশোনা করে। তারপর যখন বিয়ে হলো পরে সে নিজেও অফিস জয়েন করলো এরপর অফিসের অধিকাংশ মেয়ে স্টাফদের মুখে মুখে আবরাজ নাম টা খেলা করতো।
দেখতে সুদর্শন হওয়ায় তার একবার সাক্ষাৎ প্রায় রমণীদের মনে গেঁথে যায়।
ফিজা জানে আবরাজ এর চরিত্র কেমন। মূলত বিয়ের আগে না জানলেও পরবর্তীতে ঠিকই বুঝে ছিলো। এমন বড়োলোক হওয়া সত্ত্বেও কেনো তাকে মিলন খান পছন্দ করে নিজের পুত্রবধূ করেছিলো! কারণ তো ছিলো। সেটা ফিজার মা বুঝতে পারে নি। তিনি ভেবেছিলো মেয়ে রূপবতী তারপর পড়াশোনা করছে ফ্যামিলি স্ট্যাটাস ভালো সেইজন্য মেয়ের জন্য ভালো ঘর থেকে প্রস্তাব এসছে। তাছাড়া তাকেও তো চিনেন দীর্ঘ দিন ধরে মিলন খান। সেইজন্য হয়তো। যদিও কারণ গুলো সব সত্যি। তবে তারমধ্যে অন্যতম কারণ এটা যে ফিজা দেখতে সুন্দর। শুধু গায়ের রং নয়। মেয়ে টার চেহারা ও মারাত্মক। ফিজার মা ও মেয়ে কে দ্রুত বিয়ে দিতে চাইছিলেন। মেয়ে সুন্দরী হওয়ার দরুণ ভালোই লোকচক্ষে পড়তো। যেমন ভালো মানুষ স্ব-সম্মানে বিয়ের জন্য প্রস্তাব নিয়ে আসতো তেমন একদল খারাপ লোক ও কুনজর দিতো।

ফিজা জানে তার মায়ের তাকে তড়িঘড়ি করে বিয়ে দেওয়ার মধ্যে এটাও একটা বড়সড় রিজন।
মনে কিছু টা সবার প্রতি অভিমান রয়েছে। যে যেভাবে পারছে তাকে ব্যবহার করছে। মা নিজের মেয়ের ভালোর জন্য। শ্বশুর নিজের ছেলের ভালোর জন্য। এখানে তার সৌন্দর্য টা কেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ফিজা চোখ মেলে তাকায়। পাশে শুয়ে আবরাজ। চক্ষুদ্বয় স্থির করে রাখে পুরুষ টার মুখপানে। কত নিষ্পাপ দেখাচ্ছে পুরুষ টাকে। অথচ এই মানুষ টা জঘন্য।
ফিজার চোখে ঘুম নেই। রাত প্রায় শেষ। না চাইতেও আবরাজ এর লাগেজ প্যাকিং করতে সাহায্য করতে হয়েছে। যদিও লাগেজ টা ওর নিজেরই। তবুও যেহেতু আবরাজ এর সাথে যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো না বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে সেক্ষেত্রে মন ঠিক লাগছে না কাজে।
তারউপর এমন অসভ্য পুরুষ যদি হয় অধিকার প্রাপ্ত স্বামী সারাক্ষণ দোহাই দিয়ে মা বোন সামনে রেখে ব্ল্যাকমেইল করে তাহলে উপায় তো কিছুই থাকে না আর। ফিজা বিরক্তিকর স্বরে অস্ফুটে বলে উঠলো,

-"অসভ্য পুরুষ।"

আবরাজ আচমকাই চোখ খুলে তাকালো। ফিজা স্পষ্ট দেখলো। থতমত খেলো মেয়ে টা। আবরাজ তার দিকে তাকিয়ে বলে,

-"আমাদের বাসর হয় নি এখনো।"

-"তো?"

-"তুমি আমাকে ক্যারেকটারলেস উপাধি কিভাবে দিতে পারো?"

-"আপনি তো এমনই। তাই এটা দেওয়ার কিছু নেই।"

-"নড়বে না।"

আবরাজ ফিজা কে জড়িয়ে ধরে বলে। ফিজা হাত দিয়ে আবরাজ এর বুকে ধাক্কা দেয়। বললো,

-"ছাড়ুন।"

-"সন্ধ্যায় কিস টা ঠিকঠাক হয় নি। ক্যান আই ট্রাই এগেইন?"

আবরাজ বাঁকা হেঁসে বলে। ফিজা চমকালো। আর সাথে সাথে বলে উঠলো,

-"নো, নেভার।"

-"ইয়েস।"

-"দূরে যান।"

আবরাজ কি শোনার পাত্র? উঁহু। ফিজা একটু নড়ে না। শুধু চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে আবার বলে,

-"আপনার এখানে আসার মূল্য উদ্দেশ্য কি আমায় নিজের বেড পাটনার বানানো?"

-"এমন হলে এতোদিনে তুমি আমার ঘরে থেকেও এখনো কুমারী থাকতে না।"

কথা সত্যি। ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কথা বাড়িয়ে ঝগড়া করতে ইচ্ছে করছে না ফিজার। নয়তো আরো কয়েকটা কথা হয়তো আবরাজ কে শুনিয়ে দিতো। তবে এখন মেয়ে টা অন্য কিছু ভাবে। আসলেই তার এই সুযোগ হাত ছাড়া করা উচিৎ নয়। যাওয়া উচিৎ আবরাজ এর সাথে। অন্তত পক্ষে পুরুষ টার সম্পর্কে আরো ভালো করে ইনফরমেশন তো সে করতে পারবে। সেক্ষেত্রে তার এই সুযোগ টা হাত ছাড়া করা ঠিক হবে না। তাই আবরাজ এর সাথে জার্মানি যাবে বলে মনস্থির করলো।

বিয়ে তো বাঙালি মেয়েদের একবারই হয়। এটা ফিজার দাদী আগে সব সময় বলতো৷ ফিজার দাদা ফিজার বাবা-র জন্মের কয়েক বছর পর-ই মারা গিয়েছিলো। ফিজার দাদী ছিলো জমিদার বংশের। অর্থসম্পদ ছিলো প্রচুর। তিনি দেখতে ও ছিলেন রূপবতী। স্বামী মারা যাওয়ার পর বিয়ের জন্য পরিবার যেমন চাপ দিতো তেমন অনেকে প্রস্তাব নিয়ে আসতো। কিন্তু তিনি আর বিয়ে করে নি।
নিজের বাবা-র বাড়িতে থেকেই ছেলে কে মানুষ করেছিলেন। যদিও এতে উনাকে ওই পরিবারে সকল কাজ করতো হতো৷ তবে এতে উনার কোনো আক্ষেপ ছিলো না। কারণ ছেলে লেখাপড়া করতে পারছে নিজেরা থাকার যায়গা পাচ্ছে। আবার দুই বেলা ভালোমন্দ খেতে পেতো। এই তো আর কি। কিন্তু বান্দা তবুও বিয়ে করে নি।
এ-সব তো ফিজা শুনে বড়ো হয়েছে। নিজের মা তো কম বয়সে বিধবা হয়েছে। কই তিনি ও তো আর বিয়ে করে নি। যদিও দাদী, মায়ের এবং তার ব্যাপার টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবুও ফিজা চাচ্ছে না ডিভোর্স তকমা টা নিজের চরিত্রে লাগাতে। এখানে আবরাজ যদি নিজে কে সত্যি শুধরে নেয় তাহলে সে সম্পর্ক টাকে আবার সুযোগ দিবে। অতীতে কি হয়েছে এসব না-হয় সে নাই ঘাঁটল। ভবিষ্যতে তো সুন্দর করাই যায়।

-------

সকাল সকাল ফিজা চমৎকার একখানা স্বপ্ন দেখলো। সে আর আবরাজ একটা বাচ্চা নিয়ে পুরো বাড়ি দৌড়াদৌড়ি করছে৷ এবং বাচ্চা টা দেখতে আবরাজ এর মতো। এমন স্বপ্ন দেখে মেয়ে টা হতবিহ্বল। আশ্চর্যের অষ্টম পর্যায়ে মেয়ে টা। কি দেখলো এসব সে নিজেও যেন ভেবে অবাক। শোয়া থেকে উঠে আরো চমকালো। বিস্ময় নিয়ে আবরাজ এর দিকে তাকিয়ে রইলো।
আবরাজ একটা লাগেজ নিয়ে বসেছে। যারমধ্যে অনেকগুলো ড্রেস দেখা যাচ্ছে। লাগেজ নিয়ে বসেছে সমস্যা সেটা নয়, সমস্যা হচ্ছে লাগেজ এর ভেতর সবগুলো ড্রেস মেয়েদের। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সব গুলো এক্সক্লুসিভ।
ফিজা আনমনেই জিজ্ঞেস করলো,

-"এগুলো?"

-"তোমার।"

আবরাজ লাগেজ এর ভেতর কিছু খুঁজতে খুঁজতে শান্ত স্বরে জবাব দেয়। ফিজা অপ্রস্তুত হয়। আবরাজ কি মজা করছে? তার হলো এতোদিন বলে নি কেনো? লাগেজ টা তো আবরাজ আসার সময় নিয়ে এসেছিলো। ফিজা তো ভেবেছে হয়তো আবরাজ এর এটা। সেইজন্য আগ্রহ আসে নি দেখার। যদিও আবরাজ এর আনা কোনো কিছু ই ফিজা ব্যবহার করছে না। শুধু ল্যাপটপ টা মিলন খান এর হাত দিয়ে দিয়েছে বিধায় সেটা ব্যবহার করে।

-"আসার সময় নিয়ে ছিলাম। বাট ফিরে এসে তোমার সাথে কথা বলার পর মনে হয়েছিল এগুলো এখন তোমাকে দেওয়া মানে আগুনে ঘি দেওয়া।"

পরপরই আবরাজ বলে। ফিজা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আবরাজ নিচ থেকে উঠে দাঁড়াল। হাতে একটা ওভার কোট। একটা গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট ও রয়েছে।
একদম কাছে এসে ফিজার কোলে রাখলো সেগুলো। ফিজা তখন ও তাকিয়ে। আবরাজ এর ভালোই লাগে মেয়ে টা এভাবে তাকালে। মন চায় ঠুসঠাস গালে কয়েকটা চুমু খেতে।
ইশ ইচ্ছে হয়েছে আর আবরাজ বুঝি নিজের ইচ্ছে পূরণ করবে না? এমন টা কি হতে পারে? মোটেও না। আবরাজ আচমকাই ঝুঁকে গেলো। দূরত্ব কমলো। অধর স্পর্শ করতে ফিজার শকট ছুটে গেলো শরীর জুড়ে। সর্বদাই আবরাজ স্পর্শ করলে ফিজা ছটফট করে। নিজে কে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য ছুটাছুটি করে। কখনো তেমন ভাবে পুরুষ টার স্পর্শ অনুভব এর মনোভাব আসে নি। কিন্তু এটার অনুভূতি ফিজা আজ যেন কিছু টা অনুভব করছে। নিজের অজান্তেই একটা হাত আবরাজ এর পিঠে চলে গিয়েছে। আবরাজ কি আস্কারা পেল? মন কি পুলকিত হলো। মস্তিষ্ক আরো কিছু চাইলো। কিন্তু আবরাজ নিজে কে কন্ট্রোল করলো। শুধু বউয়ের অধরসুধা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রইলো। ফিজা চোখ বন্ধ করে আছে। আবরাজ হুঁশে থাকা অবস্থায় এই প্রথম ফিজা কে নিজ থেকে চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে রাখতে দেখলো। মুগ্ধ হয়ে আবরাজ বউয়ের বন্ধ চোখের পাতার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,

-"আই কান্ট কন্ট্রোল মাইসেলফ। বাট ডোন্ট ওয়ারি আমি তোমাকে আর হার্ট করবো না।"

#চলবে..

Address

Rajarbag
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Minzu Khan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Minzu Khan:

Share

Nearby media companies