শাদা প্রকাশ

শাদা প্রকাশ একটি শিল্প সাহিত্যের পত্রিকা
(1)

28/10/2023

আমি বলছি গাজা থেকে
কণ্ঠ : পিএম মিজান
লেখা ও সুর : সাইফ আলি
কম্পোজিশন : অনু মুস্তাফিজ
সম্পাদনা : নোমান শরিফ

___________________________________

হঠাৎ বৃষ্টি এলে দুচোখ ভিজিয়ে নিও শুনেছি তোমার কাছে জল নেই
শুনেছি এখন নাকি তোমাদের ও প্রান্তে আর কোনো মুজাহিদ দল নেই।।
আমি বলছি গাজা থেকে তোমাদেরই ভাই বোন তোমাদেরই শরীরের অংশ
আজ যদি আবাবিল আসতো এ পৃথিবীতে ভাবো কারা হোতো তাতে ধ্বংস।

আমাদের রক্ত বৃথা যাবে না জানি হায়েনার চিৎকারে ভীত নই
আকসার প্রেম বুকে লড়ছি লড়েই যাবো চুপ করে থাকবো না নিশ্চয়।।
আমি বলছি গাজা থেকে তোমাদেরই ভাই বোন তোমাদেরই শরীরের অংশ
চোখ খোলো চিনে নাও জেহাদের ময়দান চিনে নাও জালিমের বংশ।

হারানো সে শক্তি ফিরে পেতে ফের
জ্বালতে হবেই আলো আল কোরানের
মিছে দুনিয়ার মায়া ছিন্ন কোরে
জয় করে নিতে হবে ছায়া আরশের।

আমাদের শিশুদের ছোটো ছোটো হাতগুলো চেয়ে দেখো তোমাদের ডাকছে
অথচ সহজ পথে খুঁজে খুঁজে জান্নাত তোমাদের চুল দাড়ি পাকছে।।
আমি বলছি গাজা থেকে তোমাদেরই ভাই বোন তোমাদেরই শরীরের অংশ
চোখ খোলো চিনে নাও জেহাদের ময়দান চিনে নাও জালিমের বংশ।
______________________________

#আমি_বলছি_গাজা_থেকে
#পিএম_মিজান
#সাইফ_আলির_গান
#গান
#সাইফ_আলি


04/05/2023

মনঘুড়ি
কণ্ঠ ও সুর : মাহফুজ মামুন
কথা : সাইফ আলি .…...............................
কেউ বেচে দেয় বুকের জমিন কেউ বেচে দেয় ঘর
কেউ বেচে দেয় দেশ জনগণ কেউ ব্যাচে অন্তর
বেচে কিনে কেউ ধনী হয় কেউ হয়ে যায় দাস
কেউ লেখে নেয় দলিল করে নিজের সর্বনাশ।।
আমি বেচবো কিছু, করবো সদায় নিত্য প্রয়োজন
প্রভু, তোমার হাতেই রেখো এ মনঘুড়ির নিয়ন্ত্রণ।

দুখের হাটে সুখ ব্যাচে কেউ, সুখের হাটে দুখ!
অন্ধকারে মগজ বেচে আলোয় ব্যাচে মুখ!!
সই ব্যাচে কেউ, মই ব্যাচে কেউ, কেউ বেচে দেয় নাও;
শহর ব্যাচে নগর ব্যাচে, ব্যাচে সবুজ গাও!
আমি বেচবো কিছু, করবো সদায় নিত্য প্রয়োজন
প্রভু, তোমার হাতেই রেখো এ মনঘুড়ির নিয়ন্ত্রণ।

মন ব্যাচে যে শরীর ব্যাচে, ব্যাচে সখের ফুল
কেউ চেনে না তারে; সবাই বাঁধায় হুলুস্থুল
একটু দামে বেচলে পুটি কিংবা পাঙাশ, কৈ!
বুদ্ধিজীবী বিবেক বেচে কিনতে পারে বই!
আমি বেচবো কিছু, করবো সদায় নিত্য প্রয়োজন
প্রভু, তোমার হাতেই রেখো এ মনঘুড়ির নিয়ন্ত্রণ।

26/01/2023

রাতটা যতো গভীর হবে
গোলাম মাওলা
কথা: সাইফ আলি
সুর: বায়জীদ আল-বান্না
স্টুডিও: টু আই টিউন

………………………………………………
রাতটা যতো গভীর হবে
চাঁদটা ততো জোছনা ছড়াবে।।
গাছের পাতারা দুলবে হাওয়ায়
আল্লাহ তোমারি অনুভবে।
রাতটা যতো গভীর হবে...

রাতজাগা পাখিগুলো গেয়ে যাবে গান
আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ মহান॥
তাদের সে গানে গানে মুগ্ধ এ মন
ব্যাকুল তোমারি অনুভবে।

বয়ে চলা নদীগুলো গেয়ে যাবে গান
আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ মহান॥
মাঝরাতে একা বসে জায়নামাজে
আল্লাহ তোমারি অনুভবে।

রিমিঝিমি বয়ে চলা ঝর্ণার তান
আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ মহান॥
নিরব প্রকৃতি হায় মুখর হবে
আল্লাহ তোমারি অনুভবে।

30/08/2022

কতো সহজেই ওরা হাসতে পারে
কথা: সাইফ আলি
সুর ও কণ্ঠ: মাহফুজ মামুন...................................................................
কতো সহজেই ওরা হাসতে পারে
ভাসতে পারে স্বপ্নের ডানা মেলে
কতো সহজেই ওরা বাঁচতে পারে
অন্ধকারে একটু আলো পেলে।।

এই ঝলমলে আলোর শহর
এই সারি সারি গাড়ির বহর
এই রাজপথ, খোলা ময়দান
তুমি-আমি, আমরা কেউ
আজও বলতে পারিনি-
এসো একসাথে বড়ো হই আমরা হেসে খেলে।।

পাথুরে এই সভ্যতা
হতে পারে না
কোনো সত্য সভ্যতা,
এই রোবোটিক দুনিয়া সবই দিচ্ছে
মনুষ্যত্ব ঝেড়ে ফেলে।।

19/07/2022

পাখিটা
কথা: সাইফ আলি
সুর ও কণ্ঠ: মাহফুজ মামুন
লিরিক ভিডিও এডিটর : বায়জীদ আল-বান্না

রোজ সকালে যেই পাখিটা ডাকতো বসে জানালায়
মাস ফুরালো আসলো না যে হারিয়ে গেলো কোথায়
পাখিটা আসতো গাইতো খেলতো একা কেউ ছিলো না সঙ্গী তার
কখনো হয়নি মনে এর আগে এতো আপন সে আমার ||

পালকে রঙ ছিলো কি নেয় মনে তা হয়নি দেখা ঠিক করে
বুঝিনি ছেড়েছে কখন যে সে আমাকে প্রেমিক করে
এখন কোন বনে যে মিলবে দেখা কোনখানে যে পাবো তার ||

জানালা রাখছি খুলে পর্দা তুলে কোনো বাধা নেই তো আর
এসেছে বৃষ্টি রোদ ঝড় তুফান আসেনি পাখি আমার
সময় স্রোত ভাসিয়ে নিস এ স্মৃতি, চাই না কোনো উপহার ||

#পাখিটা
#সাইফ_আলি
#মাহফুজ_মামুন


09/07/2022

বানের জল
কণ্ঠ: পি এম মিজান
সুর: সালেক মুর্শেদ
কথা: সাইফ আলি
……………………………………
যেই বানের জলে ভাইসা গেছে সহায় সম্বল
মরার চোখ তোর কান্দনে বাড়িলো আবার সেই বানেরই জল;
হোক কষ্ট যতই ডাকিস না সই দূর পাহাড়ের ঢল।।

ভাইসা গ্যাছে চুলোর আগুন
কুলোতে নাই চাল,
ভাইসা গ্যাছে ময়না বিবির
ইট্টুকুন ছাওয়াল;
আমি ক্যামনে তারে শান্ত করি আমারে তুই বল।।

কত মানুষ লাশ হইলো আর
নিঃস্ব হইলো কতো,
ও রহমান তুমিই পারো
সারাইতে এই ক্ষত;
জানি, যা পাইয়াছি সব আমাগো আপন কর্মফল।।
……………………………………
শব্দ ধারণঃ সুপার টিউন ষ্টুডিও




#গান

বানের জল কণ্ঠ : পি এম মিজান সুর : সালেক মুর্শেদ কথা : সাইফ আলি
07/07/2022

বানের জল
কণ্ঠ : পি এম মিজান
সুর : সালেক মুর্শেদ
কথা : সাইফ আলি

05/09/2018

ফোক গান : শেষ সাজনে দে...
Islamic Folk Song By Mesbah
Lyric : Kobir AL- Mamun
Tune : A.T Mesbah
Main Singer : Saiful Islam
Cover : AT Mesbah
Edit : Lotif Mazi
Produce by : Saif Ali
Presents : shadaprokash

17/10/2017

ভোর বিহানে পাখির গানে
কথা: কবির আল মামুন
সুর: আবু তৈয়ব মেসবাহ ( AT Mesbah )
শিল্পী: মুজাহিদ

16/09/2017

তুমি ঘুমাও নিটোল জলে...
কথা: Saif Ali
সুর ও কণ্ঠ: আবু তৈয়ব মেসবাহ ( AT Mesbah )
সম্পাদনায়: মাহাদী হাসান মেধা ( Mahadi Hasan Medha )

01/08/2017
01/08/2017
26/07/2017

সমস্ত সেজদার কসম / সাইফ আলি আমাদের যতোকথা ধুলোপিঠে পরিত্যক্ত জমে আছে; জমে আছে রাতের ঘোলাটে অন্ধকারে রাজপথ ছুঁয়ে, মুখ গুঁজে রক্তের পুরোনো দাগে; আমাদের যতোকথা...

20/07/2017

শিল্পী: ওবায়দুল্লাহ তারেক
সুর: আবু তৈয়ব মেসবাহ
কথা: সাইফ আলি
পরিবেশনায়: শাদা প্রকাশ
........................................
আজো সেই চাদরখানি
আদর দেয় আমায়
যে চাদর থাকতো জড়ায়ে
আমার মায়ের গায় ॥

রং জ্বলে গেছে যে এর
তবু মায়া ছাড়েনি,
জীর্ণতাতে মায়ের আদর
কমাতে যে পারেনি ॥
আজো সে জড়িয়ে রাখে
অজর মমতায়।

কত মায়া কত স্মৃতি
মিশে আছে এর মাঝে,
আজো সেই স্নিগ্ধ সুবাস
খুঁজে পায় এর ভাজে।

বুকে ধরে জাপটে আমায়
জড়াতো এ চাদরে,
ভালবাসার উষ্ণ হাওয়ায়
জানি না কি আদরে ॥
সে আদর মিলবেনা আর
অমন শুভ্রতায়।........................................
ইউটিউবে দেখতে-
https://www.youtube.com/watch?v=eeexNTY0UUI

15/07/2017

Ukulele বাজিয়েছে ছোটভাই আরিফ

14/07/2017
14/07/2017

ফিরে যাও বুনোপাখি
তুমি কিসের অহংকারে
এই শহরের জানালাতে
করো নিষ্ফল ডাকাডাকি…!!

এই শহরে থাকে না খড়কুটো
নেই পথে প্রান্তরে ঘাসফুল
তবু মিথ্যেই কেনো ঝাপটাও দুটো পাখনা…
তুমি ফিরে যাও গ্রাম-গঞ্জে
এরা যাচ্ছে যেখানে যাকনা।

এই যান্ত্রিক গোলোযোগে
এই ধুলোর আস্তরণে
যদি মেঘমালা এসে থেমে যায়
কাকের কপাল ঘেমে যায়
তবু দিনতো যাচ্ছে যাকনা-
তুমি মিথ্যেই কেনো ঝাপটাও দুটো পাখনা…?

তুমি বই-টই কিছু পড়না
নেই ডিগ্রির কোনো সমাহার
তবু শেখাতে চাচ্ছো সুখ কি!!
আয়নাতে তুমি দেখেছো নিজের মুখ কি?
এই শহরের ট্রেন ছুটছে
শুধু স্টেশনের ঠিক নেই
তুমি ফিরে যাও পাখি ফিরে যাও
এই জাহাজের কোনো কম্পাস নেই দিক নেই…

https://www.youtube.com/watch?v=eeexNTY0UUI
12/07/2017

https://www.youtube.com/watch?v=eeexNTY0UUI

শিল্পী: ওবায়দুল্লাহ তারেক কথা: সাইফ আলি সুর: আবু তৈয়ব মেসবাহ একটি শাদা প্রকাশ পরিবেশনা ....................................... আজো সেই চাদরখানি আদর দেয় আম...

ও রাজা সোলেমান,কেন আমার একটু এদিক ওদিক উড়ে বেড়ানোতে আপনি এমন তিতিবিরক্ত?আল্লাহ আপনাকে মানুষের, জিন ও হাওয়ানদের রাজা বানি...
13/06/2017

ও রাজা সোলেমান,
কেন আমার একটু এদিক ওদিক উড়ে বেড়ানোতে আপনি এমন তিতিবিরক্ত?
আল্লাহ আপনাকে মানুষের, জিন ও হাওয়ানদের রাজা বানিয়েছেন।
ও বাতাসকে হুকুম করার মালিক,
সহস্র প্রাণের উপর দয়া দেখানোর জন্যই তো নবী-রসুলগণ আসেন
পৃথিবীকে নরম করতে।
আপনি পিঁপড়ে থেকে শুরু করে আমার মত হুদহুদ পাখিরও ভাষা বোঝেন।
বোঝেন প্রতিটি অশ্রুসিক্ত নয়নের অনুনয়। আর পাখির স্বভাবই
যেহেতেু অনুসন্ধিৎসা এবং কবির মতো ডানা মেলে ভেসে বেড়ানো
তার বেয়াদপীর প্রতি কে আর অতো খেয়াল রাখে?
উড়াল ও আড়ালে থাকাই পাখিদের জন্য কল্যাণকর।
ও নবী সোলায়মান আলায়হিসসালাম,
আমার ক্ষণ-অনুপস্থিতি ক্ষমার্হ, কারণ আমি আপনার বিস্ময়বোধকে
উদ্রিক্ত করার মশাল নিয়ে এসেছি, এনেছি এক অদ্ভুত দেশের মানচিত্র।

ও পিঁপড়েদের কথা অনুধাবনকারী,
আমি কি আমার পালকের চেয়েও অধিক আনন্দ সংবাদ
এনে রাজকীয় পুলকের উৎসমুখ খুলে দিইনি?
আপনার আজ্ঞায় বাতাস আমাকে ভাসিয়ে নেয় দূরে দূরান্তরে
জিনেরা অজানা দেশের পাকা মেওয়া এনে রাখে আমার ক্ষুধাতূ চঞ্চুর সামনে।
আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আপনার সোহবতে থেকে আমি
দুনিয়ার সাদাকালো হলুদ সকল আদম জাতির ভাষা এখন বুঝতে পারি।
আহা মানুষের ভাষা যদি আমার জন্য দুর্বোধ্য হতো কতই না ভাল ছিল।

হে নবীমহামতি,
আমার বাচালতা মার্জনা করুন। মানুষ যা কিছু বলে এর অর্ধেকই
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি যা কক্ষনোও রক্ষিত হয় না।
আর মানুষের মেয়েরা তারা যত সুন্দরীই হোক তারা
মিথ্যার ব্যাপারে একেবারে শেবার সর্বোচ্চ মন্দিরতুল্য। সোনাদানায় সাজানো।
আমার ক্ষণ-অনুপস্থিতি আনার তীক্ষ্ন দৃষ্টির রাজকীয় মর্যাদাকে উদ্বিগ্ন না করুক।
কারণ আমি নিয়ে এসেছি পুর্বদিগন্ত থেকে এক নারীশাসিত উর্বর ভূমির খবর। যে দেশ
আল্লাহর ব্যাপারে নিরাসক্ত কিন্তু উপাসনা ধরেছে উদিত সূর্য ও পৌত্তলিকতার।
ও সহস্র রথের মালিক মহারথী রাজা সোলেমান,
আমি নিয়ে এসেছি সেই পতাকা ও পুজোর রাজ্য
শেবার সেই দিগভ্রান্ত রাজ্ঞীর খবর। যিনি কোটি মানুষের আনুগত্যের
বিনিময়ে চাপিয়ে দিয়েছেন এক স্বৈর সিংহাসন, দুর্ভার, পাষাণ।

আপনি তো জানেন রাজা
রাজ্ঞীর শাসন মানেই তো দেশ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া। নদী শূন্য
খরা, কুয়াশা ও মুকুল ঝরে যাওয়া।
পুরুষের অনুপস্থিতি হলো স্বাধীনতা ও সীমান্ত সংকোচিত হয়ে আসার আলামত।

আক্ষেপ সেই দেশের জন্য
যেখানে সহস্র পুরুষের বাহু পেশীবহুল কিন্তু তীরন্দাজ হয়ে আছে নারী।
রাজপুরুষ, জ্ঞানী অধ্যাপক, কবি-বিদূষক এবং সেনাপতিগণ নির্বাক
মাথা নত করে থাকে রাজপুরুষেরা এক অহংকারী,নির্বোধ রাণীর স্বেচ্ছানর্তন ও
হিংস্র খেয়ালের কাছে।
কে না জানে রাণীদের ঠোঁটে ও অন্তর্বাসে কোনো টেরচা সেলাই থাকে না।
মাতৃরূপ ত্যাগ করলে নারীর চেহারায় আর নেকড়েনীর মুখের পার্থক্য ঘুচে যায়।
পৃথিবীর মৃত্তিকায় শান্তির প্রতিশ্রুতি দানকারী
ও পয়গম্বর রাজা সোলেমান,
কয়েক লহমার জন্য আমার অনুপস্থিতি ক্ষমা করুন। আর পূর্বদেশের
সেই নারীরাজ্যের মহারাজ্ঞীর প্রতি এক হেদায়েতের বার্তা লিখে
আমার গলায় ঝুলিয়ে দিন।
আমি তা পৌঁছে দিতে
আমার পাখা মেলে আছি।

ও রাজা সোলেমান, কেন আমার একটু এদিক ওদিক উড়ে বেড়ানোতে আপনি এমন তিতিবিরক্ত? আল্লাহ আপনাকে মানুষের, জিন ও হাওয়ানদের রাজা বানিয়েছেন। ও বাতাসকে হুকুম করার মালিক, সহস্র প্রাণের উপর দয়া দেখানোর জন্যই তো ন…

যে কেউ তোমাকে দেখে বলবে- তুমি প্রকৃতির মতো সুন্দর।কিন্তু আমি আবিষ্কার করেছি: তুমি এক রহস্যমানবী-অধরা-অশেষ-অপাপবিদ্ধ- এক ...
13/06/2017

যে কেউ তোমাকে দেখে বলবে- তুমি প্রকৃতির মতো সুন্দর।
কিন্তু আমি আবিষ্কার করেছি: তুমি এক রহস্যমানবী-
অধরা-অশেষ-অপাপবিদ্ধ- এক পলকে সবাইকে মুগ্ধ করার মতো।
তবে আমি সবার হতে দিতে চাই না- তুমি শুধু আমার পৃথিবী হয়েই থাকবে।
চারপাশে যে সবুজতা সজীবতায় জেগে উঠেছে, কাউকে পরওয়া করছে না;
ওরা আসলে তোমার মুখের লাবণ্যের খোঁজ-খবরই রাখে না।
ঐ সবুজতার চোখ চেয়ে থাকুক তোমার শরীরের লাবণ্য প্রভায়।
উপলব্ধি করুক মানবীয় সজীবতার দিক্দিগন্ত।
এই আষাঢ়ে আকাশে মেঘদূতের মতো কালো জলদ মেঘেরা আনন্দে নেচে যাচ্ছে,
তুমি আমার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে অভিভূত হয়ে চেয়েছিলে সেদিকে;
কিন্তু বুঝতে পারোনি, তোমার চুলের বিন্যাস আর চাঞ্চল্য যদি ওরা লক্ষ করতো
তাহলে প্রকৃত সৌন্দর্যের ষোলকলা অনুভব করতে পারতো, ওদের দুর্ভাগ্য।
রাস্তার পাশে দেখো সবুজ পাতার ফাঁকে কৃষ্ণচূড়া কেমন উদ্ধত হয়ে
লাল পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, ওদের সৌভাগ্য হয়নি
তোমার ঠোঁটের মাধুর্য দেখার; হলে লজ্জায় আরো রক্তাক্ত হয়ে যেতো।
আর সেই ঠোঁটের হাসি যদি তুমি ছড়িয়ে দিতে, তাহলে দেখতে-
এক ফুঁয়ে যেভাবে মোমবাতি নিভে যায়
সেভাবে দপ করে নিভে যেতো উজ্জ্বল সূর্যটা।
তুমি দিঘি দেখে সেদিন উ”চ্ছ্বসিত হয়েছিলে। বললে, কী গভীর আর স্বচ্ছ!
আকাশ এসে ওখানে বাসা বেঁধেছে। আমি প্রতিবাদ করেছি: তুমি যদি আমার
চোখের আয়নায় তোমার পল্লবিত আখিযুগলকে দেখতে, তাহলে জানতে পারতে
এই দুটি আসলে চোখ নয়, এ যে রামসাগর- যেখানে কাচের মতো
স্বচ্ছতায় লুটোপুটি দিচ্ছে সুনীল আকাশ।
আমার মতো কবি সেখানে সাঁতার দিতে পারলে নিজেকে মহারাজ মনে করতো।
তুমি সেদিন পূর্ণিমা চাঁদের প্রসংশায় পঞ্চমুখ ছিলে
মনে মনে আমি অস্বীকার করেছি।
কেননা তোমার উন্নত স্তনযুগলে অনন্ত জোছনার ফোয়ারা উৎসারিত-
একজোড়া ক্ষয়হীন পূর্ণিমা সেখানে দিবানিশি স্বর্গীয় বিভা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
একজন কবি তার স্পর্শ পেলে অমরতা লাভে কোনো বাধাই থাকবে না।
আমার মতো হতভাগ্য কবির কাছে তো স্বর্গচূড়া।
তুমি বর্ষার সজীব ঘাসের সবুজে হাতের ছোঁয়া দিয়ে সেদিন পুলকিত হয়েছো;
ঘাসের স্পর্শে শিহরণে নিজেকে ধন্য মনে করেছো।
কিন্তু আমি দেখেছি ঘাসেরাই ধন্য ধন্য বনে গেছে।
আহ্ আমার বুকের জমিন যদি হতো ঘাসের প্রান্তর,
তাহলে আমি সর্বস্ব ত্যাগ করতাম।
সেদিন আমি জামরুল গাছ দেখে জামরুল খেতে চেয়েছিলাম;
আমার মতো গাধা বুঝতে পারেনি, তোমার মাঝেই আছে
জামরুলের আদি ঐতিহ্য,
পরে আশ্চর্য হয়েছি তোমার নাভিমূল দেখে:
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জামরুলের উপমা!
সেটা আমি কেমন করে বলি! আমি কেমন করে বলি-
শুভ্র কদমের মাতালকরা যে গন্ধ, সমস্ত চেতনাকে অবশকরা যে সুবাস,
তা তোমার চুম্বন-পরিমলের কাছে শতবার হার মানে।
আসলে তুমি প্রকৃতির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রকৃতিপাগল কবিদের সামনে
তুমি এক জ্বলন্ত, প্রাণবন্ত প্রতিবাদের প্রতিমা-
যার অন্তরালে একজন বিস্ময়মানবী তুমি-
একাকী, নিঃসঙ্গ, নির্জন একটি বাড়িতে তুমি ফুটে আছো।
আর আমি এক অখ্যাত কবি তোমার দরজায় অনন্তকাল কড়া নেড়ে যাই
কড়া নেড়ে যাই, কড়া নেড়ে যাই…

যে কেউ তোমাকে দেখে বলবে- তুমি প্রকৃতির মতো সুন্দর। কিন্তু আমি আবিষ্কার করেছি: তুমি এক রহস্যমানবী- অধরা-অশেষ-অপাপবিদ্ধ- এক পলকে সবাইকে মুগ্ধ করার মতো। তবে আমি সবার হতে দিতে চাই না- তুমি শুধু আমার পৃ…

13/06/2017

নির্জন নদীর তীরে অপরাহ্নে ঘাসফুলে সোনার ফসলে চোখ রেখে, যে হৃদয় তোমাকে দেবার কথা ছিল- সে আজ হাটের পণ্য। হাটে হাটে নগরে বন্দরে সে হৃদয় বিজ্ঞাপিত আজ। শ্রমশক্তি আর তার ধৈর্যের পরীক্ষা চলে হাতে হাতে; হা…

[গ্রিসের বিরুদ্ধে আঙ্গোরা-তুর্ক-গভর্নমেন্ট যে যুদ্ধ চালাইতেছিলেন, সেই যুদ্ধে কামাল পাশার সাহায্যের জন্য ভারতবর্ষ হইতে দশ...
17/05/2017

[গ্রিসের বিরুদ্ধে আঙ্গোরা-তুর্ক-গভর্নমেন্ট যে যুদ্ধ চালাইতেছিলেন, সেই যুদ্ধে কামাল পাশার সাহায্যের জন্য ভারতবর্ষ হইতে দশ হাজার স্বেচ্ছাসৈনিক প্রেরণের প্রস্তাব শুনিয়া লিখিত।]

ওরে আয়!
ওই মহাসিন্ধুর পার হতে ঘন রণভেরি শোনা যায় –
ওরে আয়!
ওই ইসলাম ডুবে যায়!
যত শয়তান
সারা ময়দান
জুড়ি খুন তার পিয়ে হুংকার দিয়ে জয়গান শোনা যায়!
আজ শখ করে জুতি টক্করে
তোড়ে শহিদের খুলি দুশমন পায় পায় –
ওরে আয়!
তোর জান যায় যাক পৌরুষ তোর মান যেন নাহি যায়!
ধরে ঝঞ্ঝার ঝুঁটি দাপটিয়া শুধু মুসলিম পঞ্জায়!
তোর মন যায় প্রাণ যায় –
তবে বাজাও বিষাণ ওড়াও নিশান! বৃথা ভীরু সমঝায়!
রণ দুর্মদ রণ চায়।
ওরে আয়!
ওই মহাসিন্ধুর পার হতে ঘন রণভেরি শোনা যায়!
তোর ভাই ম্লান চোখে চায়,
মরি লজ্জায়,
ওরে সব যায়,
তবু কবজায় তোর শমশের নাহি কাঁপে আপশোশে হায়?
রণ দুন্দুভি শুনি খুন-খুবি
নাহি নাচে কি রে তোর মরদের ওরে দিলিরের গোর্দায়?
ওরে আয়!
মোরা দিলাবার খাঁড়া তলোয়ার হাতে আমাদেরই শোভা পায়!
তারা খিঞ্জির, যারা জিঞ্জির -গলে ভূমি চুমি মুরছায়।
আরে দূর দূর! যত কুক্কুর
আসি শের-বব্বরে লাথি মারে ছি ছি ছাতি চড়ে! হাতি
ঘাল হবে ফেরু -ঘায়?
ওরে আয়!
বোলে দ্রিম দ্রিম তানা দ্রিম দ্রিম ঘন রণ-কাড়া-নাকাড়ায়!
ওই শের-নর হাঁকড়ায় –
ওরে আয়!
ছাড় মন-দুখ
ওই বন্দুক তোপ, সন্দুক তোর পড়ে থাক, স্পন্দুক বুক ঘায়!
নাচ তাতা থই থই তাতা থই –
থই তাণ্ডব, আজ পাণ্ডব সম খাণ্ডব-দাহ চাই।
ওরে আয়।
কর কোরবান আজ তোর জান দিল আল্লার নামে ভাই!
ওই দীন দীন-রব আহব বিপুল বসুমতী ব্যোম ছায়!
শেল গর্জন
করি তর্জন
হাঁকে-, ‘বর্জন নয় অর্জন’ আজ শির তোর চায় মা-য়!
সব গৌরব যায় যায়;
ওরে আয়!
বোলে দ্রিম দ্রিম তানা দ্রিম দ্রিম ঘন রণ-কাড়া-নাকাড়ায়!
ওরে আয়!
ওই কড় কড় বাজে রণ-বাজা, সাজ সাজ রণ-সজ্জায়!

ওরে আয়!
মুখ ঢাকিবি কি লজ্জায়?
হুর হুররে!
কত দূর রে
সেই পুর রে
যথা খুন-খোশরোজ খেলে হররোজ দুশমন খুনে ভাই!

সেই বীর-দেশে চল বীর বেশে,
আজ মুক্ত দেশেরে মুক্তি দিতে রে বন্দিরা ওই যায়!
ওরে আয়!
বল্ ‘জয় সত্যম্ পুরুষোত্তম’, ভীরু যারা মার খায়!
নারী আমাদেরই শুনি রণ-ভেরি হাসে খলখল, হাত-তালি দিয়ে রণে ধায়!
মোরা রণ চাই রণ চাই,
তবে বাজহ দামামা, বাঁধহ আমামা, হাথিয়ার পাঞ্জায়,
মোরা সত্য-ন্যায়ের সৈনিক, খুন-গৈরিক বাস গায়।
ওরে আয়!
ওই কড় কড় বাজে রণ-বাজা, সাজ সাজ রণ-সজ্জায়!
ওরে আয়!
অব- রুদ্ধের দ্বারে যুদ্ধের হাঁক নকিব ফুকারি যায়!
তোপ দ্রুম দ্রুম গান গায়!
ওরে আয়!
ওই ঝনন রনন খঞ্জর-ঘাত পঞ্জরে মুরছায়!
হাঁকো হাইদর
নাই নাই ডর,
ওই ভাই তোর ঘুর-চরখির সম খুন খেয়ে ঘুর খায়।
ঝুটা দৈত্যেরে
নাশি, সত্যেরে
দিবি জয়-টীকা তোরা, ভয় নাই ওরে ভয় নাই হত্যায়!
ওরে আয়!
মোরা খুন-জোশি বীর, কঞ্জুসি লেখা আমাদের খুনে নাই।
দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের বাদশাহি, মোরা জালিমের খুন খাই।
মোরা দুর্মদ, ভরপুর মদ
খাই ইশ্‌কের, ঘাত শমশের ফের নিই বুক নাঙ্গায়!
লাল পলটন মোরা সাচ্চা
মোরা সৈনিক, মোরা শহিদান বীর বাচ্চা!
মরি জালিমের দাঙ্গায়!
মোরা অসি বুকে বরি হাসি মুখে মরি, ‘জয় স্বাধীনতা’ গাই।
ওরে আয়!
ওই মহাসিন্ধুর পার হতে ঘন রণভেরি শোনা যায়!!

[গ্রিসের বিরুদ্ধে আঙ্গোরা-তুর্ক-গভর্নমেন্ট যে যুদ্ধ চালাইতেছিলেন, সেই যুদ্ধে কামাল পাশার সাহায্যের জন্য ভারতবর্ষ হইতে দশ হাজার স্বেচ্ছাসৈনিক প্রেরণের প্রস্তাব শুনিয়া লিখিত।] ওরে আয়! ওই মহাসিন্ধুর প…

বাড়িতে কী যেন আছেযতক্ষণ থাকি আমি কেমন স্বস্তির আরামে নিশ্চিন্ত নির্ভারনীলিমা সাগরে পালতোলা মেঘনাও মনে হয়।ক্লান্তি, সংশয়,...
17/05/2017

বাড়িতে কী যেন আছে
যতক্ষণ থাকি আমি কেমন স্বস্তির আরামে নিশ্চিন্ত নির্ভার
নীলিমা সাগরে পালতোলা মেঘনাও মনে হয়।
ক্লান্তি, সংশয়, অস্বস্তি, অস্থিরতা, ভয় ও দ্বিধার বৃষ্টি
একদম ঝরে না আমার ভেতরে।
বাহির হলেই পৃথিবীর পথে বুঝতে পারি কে যেন ডাকে বাড়ি থেকে-
রক্তে আমার ভাটির সুর বাজে।
উজান হাঁটায় আমি টের পাই-
কী যেন আমায় ক্রমাগত টানতে থাকে, টানতে থাকে
মনে হয় সমস্ত শান্তির উৎস তার কাছে
বাড়িতে কী যেন আছে।

মায়ের মমত্বে আর আব্বার শাসনে বেড়ে ওঠার আশ্রয়?
আত্মীয়ের সহজ মুখের সান্নিধ্য
দিনযাপনের ছোট্ট আবহে আসক্তি
আমাদের মাটির উঠোনে জোছনায় ভিজে ভিজে হাঁটার আনন্দ
কিশোর কড়ই গাছটার ছায়ার প্রশান্তি
পূবের ও দখিনের জানালায় স্বাপ্নিক হাওয়ার সুখ
আমার লাগান ডালিমের ডালে স্বাধীন উচ্ছ্বাস চড়–য়ের
বারান্দায় বসে বসে রোদবৃষ্টির আবেগ অনুভব
না এ জলবায়ু আমার রক্তে অভ্রান্ত নিয়তির সাথে একাকার?

বুঝি না বাড়িতে কি আছে
শুধু জানি বাড়িই আমার সূর্য আর আমি নিজ কক্ষপথ চলা এক অনুগত গ্রহ,
এর ব্যতিক্রমে রক্তে আমার জাগে অব্যর্থ দ্রোহ।

বাড়িতে কী যেন আছে যতক্ষণ থাকি আমি কেমন স্বস্তির আরামে নিশ্চিন্ত নির্ভার নীলিমা সাগরে পালতোলা মেঘনাও মনে হয়। ক্লান্তি, সংশয়, অস্বস্তি, অস্থিরতা, ভয় ও দ্বিধার বৃষ্টি একদম ঝরে না আমার ভেতরে। বাহির হলে…

সাগর গান জোড়ে ছলাৎ ছল ছল, জলেরা জোড়ে নাচ।হৃদয় নাচে দেখে, যেন বা নীল জলে হৃদয় তিমি মাছ।।ঢেউযের ’পরে এসে আছড়ে পড়ে ঢেউ, হৃদ...
17/05/2017

সাগর গান জোড়ে ছলাৎ ছল ছল, জলেরা জোড়ে নাচ।
হৃদয় নাচে দেখে, যেন বা নীল জলে হৃদয় তিমি মাছ।।

ঢেউযের ’পরে এসে আছড়ে পড়ে ঢেউ, হৃদয়ে লাগে ঘাই।
যেদিকে চোখ যায়, সাগর ছাড়া কিছু জগতে যেন নাই।।

সাগর নিঃসীম, অথৈ, অনন্ত, আদি ও অস্থির।
দুচোখে নাই ঘুম, ক্লান্তি নাই দেহে, খুশিতে নাচে নীর।।

যে জানে নাচতে ও বাঁচতে নিশিদিন, সাগর শুধু তার।
মৃত্যু ছোঁয় যাকে, মারে সে ছুঁড়ে তাকে বাইরে অনিবার।।

সাগর জীবন্ত, অশেষ যৌবনা, মত্ত রূপবতী।
যে দ্যাখে তার রূপ, দাঁড়ায় থমকে সে, হারিয়ে ফ্যালে গতি।।

শরীর থেমে যায়, হৃদয় ওঠে নেচে যেন বা নীল জল।
সত্তা জুড়ে বাজে মধুর এক ধ্বনি ছলাৎ ছল ছল।।

সাগর গান জোড়ে ছলাৎ ছল ছল, জলেরা জোড়ে নাচ। হৃদয় নাচে দেখে, যেন বা নীল জলে হৃদয় তিমি মাছ।। ঢেউযের ’পরে এসে আছড়ে পড়ে ঢেউ, হৃদয়ে লাগে ঘাই। যেদিকে চোখ যায়, সাগর ছাড়া কিছু জগতে যেন নাই।। সাগর নিঃসীম, অথৈ…

একজন কবি আর কি দিতে পারে? এই নাও আমার পরিস্রুত ভাষানাও কবিতা-আমার রক্ত। কলমের কালির চেয়েও মহার্ঘ। নাও আমার অশ্রুজলদ্যাখো...
15/05/2017

একজন কবি আর কি দিতে পারে? এই নাও আমার পরিস্রুত ভাষা
নাও কবিতা-
আমার রক্ত। কলমের কালির চেয়েও মহার্ঘ। নাও আমার অশ্রুজল
দ্যাখো এতে যদি তোমার মরে যাওয়া স্রোতগুলো
নদীকে বিহ্বল করে ঘোলা পানির তোড় নিয়ে
সমুদ্রের দিকে ধাবমান হয়।
নাও অক্ষিগোলক। যদি এতে তোমার ভবিষ্যৎদৃষ্টি একবিংশ শতাব্দীকে
দুটি তীক্ষ্ন তীরের মত গেঁথে ফেলে। আমার চামড়া দিয়ে তোমার
রাঙা পায়ের জুতো বানিয়ে দিলাম। পরো।
আর হেঁটে যাও আগামী দিনের দিগবলয়ের দিকে।
পৃথিবী দেখুক আমার সমস্ত গান পাখি হয়ে তোমার শরীরে বাসা বেঁধেছে
আমার শব্দ তোমার শাড়ির পাড়ে মাছের আকৃতি নিয়ে
ঝাঁক বেঁধে সাঁতার কাটছে, তোমার ঘোমটায়।
দেখুক আমার ছন্দ তোমার কণ্ঠহার হয়ে দুলছে। আর
আমার উপমা?
তুমি তো জানো তোমার সাথে তুলনা দিই এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই।
চির দুঃখিনী মা আমার
তোমার ঐশ্বর্যই তোমার শত্রু। যেমন আপন আপন মাংসে
হরিণী বৈরী।

চারদিকে শকুনীর উড়াউড়ি দেখে ভাবি তোমার শ্যামল প্রান্তর
হিংস্র মাংসাশী পাখির বিষ্ঠায় আকীর্ণ বটবৃক্ষের মত কেন?
আমরা কি তোমাকে রক্ষা করতে পারব? অযোগ্য সন্তান আমরা।
তবুও তো তোমার শস্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
তোমার রুদ্ধ নদীগুলোর ইশারায় আমরা কাঁপছি।
তোমার পর্বত যেন মাতৃস্তনের মত ভালোবাসার গহিনে
আমাদের জন্য আহ্বান।
তোমার প্রান্তর যেন রেখায়িত মাতৃ উদরের মত। যেখানে আমাদের উদ্ভব।
কে বলে পরাজিত তুমি? চির বিজয়িনী তুমি কোটি কোটি
ঈমানদার মানুষের ধাত্রী।
তোমার জন্য তোমার সন্তানদের অদেয় কি কিছু আছে? অথচ নামগোত্রহীন
ডাইনিরা তোমাকে নিয়ে পাশাখেলায় মত্ত। তারা বাজি রাখে
তোমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গের
তারা তোমাকে চির ক্রীতদাসী বানিয়ে তোমার অঙ্গে পরিয়ে দিতে চায়
দাসত্বের বল্কল।
কিন্তু তোমার সন্তানেরা জানে, ও আমাদের তৌহিদবাদিনী
অবগুণ্ঠিতা জননী জাগ্রতা
পৌত্তলিক ধুম্রকুণ্ডলী থেকে তুমি একদিন বেরিয়ে আসবেই।

তোমার নদীগুলো আবার সমুদ্রের দিকে ধাবমান হবে। চিম্বুক পাহাড়
হবে তোমার স্তনাগ্রচূড়ার মত মাতৃত্বের গৌরব।
ডাইনিদের পাশার ঘুটি একদিন ইতিহাসের অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হলে
স্বাধীনতার গান গাইবে তোমার কিষাণ-কিষাণীরা।
আমরা এভাবেই তোমার আশাকে জাগিয়ে তুলি। আশাইতো
তোমার ভবিষ্যত ও ভরসা। প্রন্তরে তোমার চরণেরা
দ্যাখো ভবিষ্যতের গান ধরেছে। আল্লাহর প্রশংসার গান।
আগামীর আনন্দের গান। এই গানে তোমার শস্যক্ষেত্রগুলো কি
শ্যামল হয়ে উঠবে না?

একজন কবি আর কি দিতে পারে? এই নাও আমার পরিস্রুত ভাষা নাও কবিতা- আমার রক্ত। কলমের কালির চেয়েও মহার্ঘ। নাও আমার অশ্রুজল দ্যাখো এতে যদি তোমার মরে যাওয়া স্রোতগুলো নদীকে বিহ্বল করে ঘোলা পানির তোড় নিয়ে সম…

চাঁদ দোলে সুয্যি দোলে,দোলে নদীর জল।দোলে আমার খোকন সোনা,দোলে হীরের ফল।সোনার গাছে ডাকছে ব’সেকোন সে পাখি বল?হীরামনের মিতা ব...
15/05/2017

চাঁদ দোলে সুয্যি দোলে,
দোলে নদীর জল।
দোলে আমার খোকন সোনা,
দোলে হীরের ফল।

সোনার গাছে ডাকছে ব’সে
কোন সে পাখি বল?
হীরামনের মিতা বুঝি
নামায় সুরের ঢল।

চাঁদ দোলে সুয্যি দোলে
দোলে ফুলের দল।
জোছনা-দড়ির দোলনা দোলে,
দেখবি সবাই চল।

চাঁদ দোলে সুয্যি দোলে, দোলে নদীর জল। দোলে আমার খোকন সোনা, দোলে হীরের ফল। সোনার গাছে ডাকছে ব’সে কোন সে পাখি বল? হীরামনের মিতা বুঝি নামায় সুরের ঢল। চাঁদ দোলে সুয্যি দোলে দোলে ফুলের দল। জোছনা-দড়ির দোল…

[তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আশমানের আঙিনা তখন কারবালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রিক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে ...
15/05/2017

[তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আশমানের আঙিনা তখন কারবালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রিক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হইয়া গিয়াছে। তাহাদের অধিকাংশ সৈন্যই রণস্থলে হত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। বাকি সব প্রাণপণে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিতেছে। তুরস্কের জাতীয় সৈন্যদলের কাণ্ডারী বিশ্বত্রাস মহাবাহু কামাল পাশা মহাহর্ষে রণস্থল হইতে তাম্বুতে ফিরিতেছেন। বিজয়োন্মত্ত সৈন্যদল মহাকল্লোলে অম্বর ধরণি কাঁপাইয়া তুলিতেছে। তাহাদের প্রত্যেকের বুকে পিঠে দুইজন করিয়া নিহত সৈনিক বাঁধা। যাহারা ফিরিতেছে তাহাদেরও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গোলাগুলির আঘাতে, বেয়নেটের খোঁচায় ক্ষতবিক্ষত, পোশাক-পরিচ্ছদ ছিন্নভিন্ন, পা হইতে মাথা পর্যন্ত রক্ত-রঞ্জিত। তাহাদের সেদিকে ভ্রূক্ষেপও নাই। উদ্দাম বিজয়োন্মাদনার নেশায় মৃত্যু-কাতর রণক্লান্তি ভুলিয়া গিয়া তাহারা যেন খেপিয়া উঠিয়াছে। ভাঙা সঙিনের আগায় রক্ত-ফেজ উড়াইয়া, ভাঙা খাটিয়া আদি দ্বারা নির্মিত এক অভিনব চৌদোলে কামালকে বসাইয়া বিষম হল্লা করিতে করিতে তাহারা মার্চ করিতেছে। ভূমিকম্পের সময় সাগর-কল্লোলের মতো তাহাদের বিপুল বিজয়ধ্বনি আকাশে-বাতাসে যেন কেমন একটা ভীতি-কম্পনের সৃজন করিতেছে। বহু দূর হইতে সে রণতাণ্ডব নৃত্যের ও প্রবল ভেরিতূরীর ঘন রোল শোনা যাইতেছে। অত্যধিক আনন্দে অনেকেরই ঘন ঘন রোমাঞ্চ হইতেছিল। অনেকেরই চোখ দিয়া অশ্রু গড়াইয়া পড়িতেছিল।]
সৈন্যবাহিনী দাঁড়াইয়া। হাবিলদার-মেজর তাহাদের মার্চ করাইবার জন্য প্রস্তুত হইতেছিল। বিজয়োন্মত্ত সৈন্যগণ গাহিতেছিল,–

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুরপুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই,
কামাল! তু নে
কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

[হাবিলদার-মেজর মার্চের হুকুম করিল : কুইক মার্চ!
লেফট! রাইট! লেফট!!
লেফট! রাইট! লেফট!!
সৈন্যগণ গাহিতে গাহিতে মার্চ করিতে লাগিল]

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুরপুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই,
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
[হাবিলদার-মেজর : লেফট! রাইট!]

সাব্বাস ভাই! সাব্বাস দিই, সাব্বাস তোর শম্‌শেরে।
পাঠিয়ে দিলি দুশমনে সব যম-ঘর একদম-সে রে!
বল দেখি ভাই, বল হাঁ রে,
দুনিয়ায় কে ডর্ করে না তুর্কির তেজ তলোয়ারে?

[লেফট! রাইট! লেফট!]

খুব কিয়া ভাই খুব কিয়া!
বুজদিল ওই দুশমন সব বিলকুল সাফ হো গিয়া!
খুব কিয়া ভাই খুব কিয়া!
হুররো হো!
হুররো হো!

দস্যুগুলোয় সামলাতে যে এম্‌নি দামাল কামাল চাই!
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই! লেফট! রাইট! লেফট!]

শির হতে এই পাঁও-তক্ ভাই লাল-লালে-লাল খুন মেখে
রণ-ভীতুদের শান্তি-বাণী শুনবে কে?
পিণ্ডারিদের খুন-রঙিন
নখ-ভাঙা এই নীল সঙিন
তৈয়ার হ্যায় হর্দম ভাই ফাড়তে জিগর শত্রুদের।
হিংসুক-দল! জোর তুলেছি শোধ তোদের!
সাবাস জোয়ান! সাবাস!
ক্ষীণজীবী ওই জীবগুলোকে পায়ের তলেই দাবাস্ –
এম্‌নি করে রে–
এম্‌নি জোরে রে–
ক্ষীণজীবী ওই জীবগুলোকে পায়ের তলেই দাবাস্!
সাবাস জোয়ান! সাবাস!

[লেফট! রাইট! লেফট!]

হিংসুটে ওই জীবগুলো ভাই নাম ডুবালে সৈনিকের,
তাই তারা আজ নেস্ত-নাবুদ, আমরা মোটেই হই নি জের!
পরের মুলুক লুট করে খায়, ডাকাত তারা ডাকাত!

তাই তাদের তরে বরাদ্দ ভাই আঘাত শুধু আঘাত!
কি বল ভাই স্যাঙাত ?
হুররো হো!
হুররো হো!
দনুজ-দলে দলতে দাদা এমনি দামাল কামাল চাই!
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
[হাবিলদার-মেজর : রাইট হুইল! লেফট! রাইট! লেফট!
সৈন্যগণ ডানদিকে মোড় ফিরিল!]

আজাদ মানুষ বন্দি করে, অধীন করে স্বাধীন দেশ,
কুল মুলুকের কুষ্ঠি করে জোর দেখালে ক-দিন বেশ,
মোদের হাতে তুর্কি নাচন নাচলে তাধিন তাধিন শেষ!
হুররো হো!
হুররো হো!
বদ-নসিবের বরাত খারাব বরাদ্দ তাই করলে কিনা আল্লায়,
পিশাচগুলো পড়ল এসে পেল্লায় ওই পাগলাদেরই পাল্লায়!
এই পাগলাদেরই পাল্লায়
হুররো হো!
হুররো হো!
ওদের কল্লা দেখে আল্লা ডরায়, হল্লা শুধু হল্লা,
ওদের হল্লা শুধু হল্লা,
এক মুর্গির জোর গায়ে নেই, ধরতে আসেন তুর্কি তাজি,
মর্দ গাজি মোল্লা!–
হাঃ! হাঃ হাঃ!
হেসে নাড়িই ছেঁড়ে বা!
হা হা হাঃ! হাঃ! হাঃ!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই! লেফট! রাইট! লেফট!
সাবাস সিপাই। ফের বল ভাই!]

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই!
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

[হাবিলদার-মেজর : লেফট হুইল! য়্যাজ য়ু ওয়্যার! – রাইট হুইল! –
লেফট! রাইট! লেফট!
সৈন্যদের আঁখির সামনে অস্ত-রবির আশ্চর্য রঙের খেলা ভাসিয়া উঠিল।]

দেখচ কী দোস্ত অমন করে? হউ হউ হউ!
সত্যি তো ভাই! সন্ধেটা আজ দেখতে যেন সৈনিকেরই বউ!
শহিদ সেনার টুকটুকে বউ লাল-পিরাহন -পরা,
স্বামীর খুনের ছোপ-দেওয়া, তায় ডগডগে আনকোরা! –
না না না, – কলজে যেন টুকরো-করে কাটা
হাজার তরুণ শহিদ বীরের, – শিউরে ওঠে গা-টা!
আশমানের ওই সিংদরজায় টাঙিয়েছে কোন্ কসাই
দেখতে পেলে একখুনি গ্যে এই ছোরাটা কলজেতে তার বসাই!
মুণ্ডুটা তার খসাই!
গোস্বাতে আর পাই নে ভেবে কী যে করি দশাই!
[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই! লেফট! রাইট! লেফট!
ঢালু পার্বত্য পথ, সৈন্যগণ বুকের পিঠের নিহত সৈন্যদের ধরিয়া সন্তর্পণে নামিল।]

আহা কচি ভাইরা আমার রে!
এমন কাঁচা জানগুলো খান খান করেছে কোন সে চামার রে?
আহা কচি ভাইরা আমার রে!!

[সামনে উপত্যকা। হাবিলদার-মেজর : লেফট ফর্ম।
সৈন্যবাহিনীর মুখ হঠাৎ বামদিকে ফিরিয়া গেল! হাবিলদার-মেজর :ফরওয়ার্ড!
লেফট! রাইট! লেফট!]

আশমানের ওই আংরাখা
খুন-খারাবির রং-মাখা,
কী খুবসুরৎ বাঃ রে বা!
জোর বাজা ভাই কাহার্‌বা!
হোক না ভাই এ কারবালা ময়দান –
আমরা যে গাই সাচ্চারই জয়গান!
হোক না এ তোর কারবালা ময়দান!!
হুররো হো
হুররো হো!!
[সামনে পার্বত্য পথ – হঠাৎ যেন পথ হারাইয়া ফেলিয়াছে। হাবিলদার-মেজর পথ খুঁজিতে লাগিল।
হুকুম দিয়া গেল : ‘মার্ক টাইম!’ সৈন্যগণ এক স্থানেই দাঁড়াইয়া পা আছড়াইতে লাগিল, –
দ্রাম! দ্রাম! দ্রাম!
লেফট! রাইট! লেফট!
দ্রাম! দ্রাম! দ্রাম!]

আশমানে ওই ভাসমান যে মস্ত দুটো রং-এর তাল,
একটা নিবিড় নীল-সীয়া আর একটা খুবই গভীর লাল,–
বুঝলে ভাই! ওই নীল-সিয়াটা শত্রুদের
দেখতে নারে কারুর ভালো,
তাইতে কালো রক্ত-ধারার বইছে শিরায় স্রোত ওদের!
হিংস্র ওরা হিংস্র পশুর দল!
গৃধ্নু ওরা, লুব্ধ ওদের লক্ষ অসুর বল –
হিংস্র ওরা হিংস্র পশুর দল।
জালিম ওরা অত্যাচারী!
সার জেনেছে সত্য যাহা হত্যা তারই!
জালিম ওরা অত্যাচারী!

সৈনিকের ওই গৈরিকে ভাই –
জোর অপমান করলে ওরাই,
তাই তো ওদের মুখ কালো আজ, খুন যেন নীল-জল!–
ওরা হিংস্র পশুর দল!
ওরা হিংস্র পশুর দল!
[হাবিলদার-মেজর পথ খুঁজিয়া ফিরিয়া অর্ডার দিল : ফরওয়ার্ড! লেফট হুইল –
সৈন্যগণ আবার চলিতে লাগিল – লেফট! রাইট! লেফট!]

সাচ্চা ছিল সৈন্য যারা শহিদ হল মরে।
তোদের মতন পিঠ ফেরেনি প্রাণটা হাতে করে –
ওরা শহিদ হল মরে।
পিটনি খেয়ে পিঠ যে তোদের ঢিট হয়েছে! কেমন!
পৃষ্ঠে তোদের বর্শা বেঁধা, বীর সে তোরা এমন!
আওরত সব যুদ্ধে আসিস! যা যা!
খুন দেখেছিস বীরের? হাঁ, দেখ টকটকে লাল কেমন গরম তাজা!
আওরত সব যা যা!
এরাই বলেন হবেন রাজা!
আরে যা যা! উচিত সাজা
তাই দিয়েছে শক্ত ছেলে কামাল ভাই!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই!]

এই তো চাই! এই তো চাই!
থাকলে স্বাধীন সবাই আছি, নেই তো নাই, নেই তো নাই!
এই তো চাই!!

[কতকগুলি লোক অশ্রুপূর্ণ নয়নে এই দৃশ্য দেখিবার জন্য ছুটিয়া আসিতেছিল, তাহাদের
দেখিয়া সৈন্যগণ আরও উত্তেজিত হইয়া উঠিল!]

মার দিয়া ভাই মার দিয়া
দুশমন সব হার গিয়া!
কিল্লা ফতে হো গিয়া!
পরওয়া নেহি, যানে দো ভাই যো গিয়া
কিল্লা ফতে হো গিয়া!
হুররো হো!
হুররো হো!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস জোয়ান! লেফট! রাইট!]

জোর সে চলো পা মিলিয়ে,
গা হেলিয়ে,
এমনি করে হাত দুলিয়ে!
দাদরা তালে ‘এক দুই তিন’ পা মিলিয়ে
ঢেউ-এর মতন যাই!
আজ স্বাধীন এ দেশ! আজাদ মোরা বেহেশ্‌তও না চাই!
আর বেহেশ্‌তও না চাই!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই! ফের বল ভাই!]

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুরপুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই!
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
[সৈন্যদল এক নগরের পার্শ্ব দিয়া চলিতে লাগিল। নগরবাসিনীরা ঝরকা হইতে মুখ বাড়াইয়া এই মহান দৃশ্য দেখিতেছিল; তাহাদের চোখ-মুখ আনন্দাশ্রুতে আপ্লুত। আজ বধূদের মুখের বোরখা খসিয়া পড়িয়াছে। ফুল ছড়াইয়া হাত দুলাইয়া তাহারা বিজয়ী বীরদের অভ্যর্থনা করিতেছিল। সৈন্যগণ চিৎকার করিয়া উঠিল!]

ওই শুনেছিস্? ঝরকাতে সব বলছে ডেকে বউ-দলে –
‘কে বীর তুমি! কে চলেছ চৌদোলে?’
চিনিস নে কি? এমন বোকা বোনগুলি সব? – কামাল এ যে কামাল!
পাগলি মায়ের দামাল ছেলে! ভাই যে তোদের!
তা না হলে কার হবে আর রৌশনএমন জামাল?
কামাল এ যে কামাল!
উড়িয়ে দেব পুড়িয়ে দেব ঘর-বাড়ি সব সামাল।
ঘর-বাড়ি সব সামাল!!
আজ আমাদের খুন ছুটেছে, হোশ টুটেছে,
ডগমগিয়ে জোশ উঠেছে!
সামনে থেকে পালাও।
শোহরত দাও, নওরাতি আজ! হর ঘরে দীপ জ্বালাও!
সামনে থেকে পালাও!
যাও ঘরে দীপ জ্বালাও!!

[হাবিলদার-মেজর : লেফট ফর্ম! লেফট! রাইট! লেফট! ফরোয়ার্ড!]

[বাহিনীর মুখ হঠাৎ বামদিকে ফিরিয়া গেল। পার্শ্বেই পরিখার সারি। পরিখাভর্তি নিহত সৈন্যের দল পচিতেছে।]

ইস! দেখেছিস! ওই কারা ভাই সামলে চলেন পা,
ফসকে মরা আধ-মরাদের মাড়িয়ে ফেলেন বা!

ও তাই শিউরে ওঠে গা!
হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ!
মরল যে সে মরেই গেছে!
বাঁচল যারা রইল বেঁচে
এই তো জানি সোজা হিসাব! দুঃখ কি তার? আঁ:?
মরায় দেখে ডরায় এরা! ভয় কি মরায়! বাঃ
হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ!
[সম্মুখে সংকীর্ণ ভগ্ন সেতু! হাবিলদার-মেজর অর্ডার দিল : ‘ফর্ম ইনটু সিঙ্গল লাইন।’ এক একজন করিয়া বুকের পিঠের নিহত ভাইদের চাপিয়া ধরিয়া অতি সন্তর্পণে ‘স্লো মার্চ’ করিয়া পার হইতে লাগিল।]
সত্যি কিন্তু ভাই!
যখন মোদের বক্ষে বাঁধা ভাইগুলির এই মুখের পানে চাই –
কেমন সে এক ব্যথায় তখন প্রাণটা কাঁদে যে সে!
কে যেন দুই বজ্র-হাতে চেপে ধরে কলজেখানা পেষে!
নিজের হাজার ঘায়েল জখম ভুলে তখন ডুকরে কেন কেঁদেও ফেলি শেষে!
কে যেন ভাই কলজেখানা পেষে!!
ঘুমোও পিঠে, ঘুমোও বুকে, ভাইটি আমার, আহা!
বুক যে ভরে হাহাকারে যতই তোরে সাব্বাস দিই,
যতই বলি বাহা!
লক্ষ্মীমণি ভাইটি আমার, আহা!!
ঘুমোও ঘুমোও মরণ-পারের ভাইটি আমার, আহা!!
অস্ত-পারের দেশ পারায়ে বহুৎ সে দূর তোদের ঘরের রাহা,
ঘুমোও এখন ঘুমোও ঘুমোও ভাইটি ছোটো আহা!
মরণ-বধূর লাল রাঙা বর! ঘুমো!
আহা, এমন চাঁদমুখে তোর কেউ দিল না চুমো!
হতভাগা রে!
মরেও যে তুই দিয়ে গেলি বহুৎ দাগা রে
না জানি কোন্ ফুটতে-চাওয়া মানুষ-কুঁড়ির হিয়ায়!
তরুণ জীবন এমনি গেল, একটি রাতও পেলিনে রে বুকে কোনো প্রিয়ায়!
অরুণ খুনের তরুণ শহিদ! হতভাগা রে!
মরেও যে তুই দিয়ে গেলি বহুৎ দাগা রে!
তাই যত আজ লিখনেওয়ালা তোদের মরণ স্ফূর্তি-সে জোর লেখে
এক লাইনে দশ হাজারে মৃত্যু-কথা! হাসি রকম দেখে,
মরলে কুকুর ওদের, ওরা শহিদ-গাথার বই লেখে!
খবর বেরোয় দৈনিকে,
আর একটি কথায় দুঃখ জানান, ‘জোর মরেছে দশটা হাজার সৈনিকে!’
আঁখির পাতা ভিজল কিনা কোনো কালো চোখের
জানল না হায় এ জীবনে ওই সে তরুণ দশটি হাজার লোকের!
পচে মরিস পরিখাতে, মা-বোনেরাও শুনে বলে ‘বাহা’!
সৈনিকেরই সত্যিকারের ব্যথার ব্যথী কেউ কি রে নেই? আহা! –
আয় ভাই তোর বউ এল ওই সন্ধ্যা মেয়ে রক্তচেলি পরে,
আঁধার-শাড়ি পরবে এখন পশবে যে তোর গোরের বাসর-ঘরে! –
ভাবতে নারি, গোরের মাটি করবে মাটি এ মুখ কেমন করে –
সোনা মানিক ভাইটি আমার ওরে!
বিদায়-বেলায় আরেকটি বার দিয়ে যা ভাই চুমো!
অনাদরের ভাইটি আমার! মাটির মায়ের কোলে এবার ঘুমো!

[সেতু পার হইয়া আবার জোরে মার্চ করিতে করিতে তাহাদের রক্ত গরম হইয়া উঠিল।]

ঠিক বলেছ দোস্ত তুমি!
চোস্ত কথা! আয় দেখি তোর হস্ত চুমি!
মৃত্যু এরা জয় করেছে, কান্না কিসের?
আব্-জম্-জম্ আনলে এরা, আপনি পিয়ে কলশি বিষের!
কে মরেছে? কান্না কিসের?
বেশ করেছে!
দেশ বাঁচাতে আপনারই জান শেষ করেছে!
বেশ করেছে!!
শহিদ ওরাই শহিদ!
বীরের মতন প্রাণ দিয়েছে, খুন ওদেরই লোহিত!
শহিদ ওরাই শহিদ!!

[এইবার তাহাদের তাম্বু দেখা গেল। মহাবীর আনোয়ার পাশা বহু সৈন্য-সামন্ত ও সৈনিকের আত্মীয়স্বজন লইয়া বিজয়ী বীরদের অভ্যর্থনা করিতে আসিতেছেন দেখিয়া সৈন্যগণ আনন্দে আত্মহারা হইয়া ডবল মার্চ করিতে লাগিল।]

হুররো হো!
হুররো হো!
ভাই-বেরাদর পালাও এখন দূর রহো! দূর রহো!
হুররো হো! হুররো হো!

[কামাল পাশাকে কোলে লইয়া নাচিতে লাগিল।]

হউ হো হো! কামাল জিতা রও!
কামাল জিতা রও!
ও কে আসে! আনোয়ার ভাই? –
আনোয়ার ভাই! জানোয়ার সব সাফ!
জোর নাচো ভাই! হর্দম দাও লাফ
আজ জানোয়ার সব সাফ
হুররো হো! হুররো হো!!
সব-কুছ আব্ দূর রহো! – হুররো হো!! হুররো হো!
রণ জিতে জোর মন মেতেছে! – সালাম সবায় সালাম! –

নাচনা থামা রে!
জখমি-ঘায়েল ভাইকে আগে আস্তে নামা রে!
নাচনা থামা রে!
কে ভাই? হাঁ, হাঁ, সালাম।
– ওই শোন শোন সিপাহ-সালার কামাল ভাই-এর কালাম!

[সেনাপতির অর্ডার আসিল,
‘সাবাস! থামো! হো! হো!
সাবাস! হল্ট! এক! দো!!’]

এক নিমেষে সমস্ত কলরোল নিস্তব্ধ হইয়া গেল। তখনও কিন্তু তারায় তারায় যেন ওই বিজয়গীতির হারা-সুর বাজিয়া বাজিয়া ক্রমে ক্ষীণ হইতে ক্ষীণতর হইয়া মিশিয়া গেল।

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুরপুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

[তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আশমানের আঙিনা তখন কারবালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রিক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হইয়া গিয়াছে। তাহাদের অধিকাংশ সৈন্যই রণস্থলে হত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে…

Address

Dhaka
1000

Opening Hours

Monday 09:00 - 20:00
Tuesday 09:00 - 20:00
Wednesday 09:00 - 20:00
Thursday 09:00 - 20:00
Saturday 09:00 - 20:00
Sunday 09:00 - 20:00

Telephone

01521220945

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শাদা প্রকাশ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to শাদা প্রকাশ:

Videos

Share

Category